নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে মৌলানা জারজিস আনসারির বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে দাবি করতে শোনা যায় যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তেন। এমনকি নিজের দাবির সমর্থনে তিনি ভগবদ্গীতা থেকে একটি শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন বলেও অভিযোগ। এই মন্তব্যের পর বিভিন্ন হিন্দু সাধু-সন্ত এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি তাঁর বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
মহামণ্ডলেশ্বর বিষ্ণু দাস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলেন, মৌলানা জারজিস আনসারি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। তাঁর দাবি, মৌলানার সংস্কৃত বা ভগবদ্গীতা সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই এবং তিনি ধর্মগ্রন্থের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
আগ্রার কৈলাশ মহাদেব মন্দিরের মহন্ত নির্মল গিরি অভিযোগ করেন, মৌলানা আনসারি বিভিন্ন সভায় নিয়মিত সনাতন ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে।
তপস্বী ছাওনির পীঠাধীশ্বর জগদগুরু পরমহংস আচার্য বলেন, মৌলানার মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো।
সন্ত দেবেশাচার্যজি মহারাজও এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এ ধরনের দাবি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এর মাধ্যমে সমাজে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল বলেন, মৌলানা জারজিস আনসারির মতো ব্যক্তিরা বারবার এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করলেও কোনও শিক্ষা নেন না। তিনি এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।
অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র শিশির চতুর্বেদীও মৌলানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবের প্রতিক্রিয়াও জানতে চান এবং বলেন, শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে এমন মন্তব্যের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
এদিকে, অখিল ভারতীয় আখাড়া পরিষদের সভাপতি মহন্ত রবীন্দ্র পুরীও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য, মৌলানা জারজিস আনসারির মন্তব্যের সত্যতা বা ঐতিহাসিক ভিত্তির পক্ষে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।



















