বেঙ্গালুরু/নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের বহু প্রতীক্ষিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্য সিদ্দারামাইয়া এবং কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। আগামী দু’দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী-সহ কর্নাটক মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মাত্র ১৪ জন মন্ত্রী। ফলে এখনও ২০টি মন্ত্রিপদ শূন্য রয়েছে। তবে ৪০ জনেরও বেশি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক মন্ত্রিত্বের দাবিদার হওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে, যাতে কোনও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি না হয়। বিরোধী বিজেপি এবং জেডি(এস)-ও গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
বেলগাভির তিনবারের কংগ্রেস বিধায়ক এবং সিদ্দারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ অশোক পাট্টন, যিনি দিল্লিতে পৌঁছেছেন, আশা প্রকাশ করে বলেন, “দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হবে। আজ না হলে আগামীকাল, সর্বোচ্চ দু’দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
নিজেকে মন্ত্রিত্বের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে পাট্টন বলেন, জাতিগত সমীকরণের পরিবর্তে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, সিদ্দারামাইয়ার আগের সরকারের সময় তিনি মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাননি, তাই এবার দলীয় নেতৃত্বের কাছে সেই সুযোগ চেয়েছেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেস বিধায়ক লক্ষ্মণ সাভাদিও মন্ত্রিত্বের আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের তিনজন মন্ত্রী থাকলেও আরও দু’জনকে ওই সম্প্রদায় থেকে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও সাতবারের বিধায়ক টি. বি. জয়চন্দ্রও জানান, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তাঁর মতে, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনের আগে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও গতিশীল হবে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে কর্নাটক সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, ছয়বারের বিধায়ক আপ্পাজি নাদাগৌড়া মুম্বই-কর্নাটক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কেবল জাতিগত সমীকরণ নয়, দলের জন্য দীর্ঘদিনের অবদান এবং সাংগঠনিক ভূমিকারও মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
প্রাক্তন মন্ত্রী রহিম খানও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, কল্যাণ কর্নাটক অঞ্চলে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং সেই কারণে মন্ত্রিসভায় তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।
দিল্লিতে কর্নাটক কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠক এবং মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশীদের তৎপরতার মধ্যে এখন নজর কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কর্নাটক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।



















