পানাজি/মুম্বই, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস, ছাত্র-আত্মহত্যা এবং দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের আবহে দার্শনিক ও লেখক আচার্য প্রশান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের কথা তুলে ধরে বলেছেন, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার গভীরতর সংকটের প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রকে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রদের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
গোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আচার্য প্রশান্ত বলেন, “২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী মানে ২২ লক্ষ পরিবার। বহু ছাত্র-ছাত্রী দুই, চার কিংবা পাঁচ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছে। যখন তারা জানতে পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তখন শুধু একটি পরীক্ষা নয়, তাদের বিশ্বাসও ভেঙে যায়।”
তাঁর মতে, এই ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস তরুণদের মনে এমন ধারণা তৈরি করে যে সততা, জ্ঞান ও পরিশ্রমের কোনও মূল্য নেই; বরং অসততা ও অর্থই সাফল্যের চাবিকাঠি। সাম্প্রতিক ছাত্র-আত্মহত্যার ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অন্তর্দহনও এক ধরনের আত্মবিনাশ, যার হিসাব অনেক সময় কোথাও নথিভুক্ত হয় না।
সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে আচার্য প্রশান্ত বলেন, তাঁর জীবনই সততা ও শিক্ষার প্রতি নিবেদনের প্রমাণ। লাদাখের মতো দুর্গম অঞ্চলে তিনি শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছেন। তাই তাঁর আবেদন, “ভারতের আরও বেশি প্রয়োজন আপনার বেঁচে থাকা। অনুগ্রহ করে অনশন ভেঙে দিন।”
তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রে সংলাপই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ। একজন সম্মানিত নাগরিককে শুধুমাত্র সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে হওয়া উচিত নয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে আচার্য প্রশান্ত বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার ফল। তাঁর মতে, সমাজ ও পরিবারই এমন মূল্যবোধ তৈরি করেছে যেখানে একটি পরীক্ষার ফলকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি সাধারণ শিশুকে শুধুমাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে। শিক্ষকদেরও তিনি আহ্বান জানান জীবিকা অর্জনের শিক্ষার পাশাপাশি জীবন গড়ার শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের অনশনের ১৯তম দিনে এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) পোস্ট করে রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, কেন্দ্র রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ন্যায্য গণআন্দোলনকে উপেক্ষা করছে। তাঁর দাবি, সরকারের এই মনোভাব গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রতি অবহেলারই পরিচয়।
রাজ ঠাকরে বলেন, একসময় বিজেপি সোনম ওয়াংচুককে গুরুত্ব দিয়েছিল এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মতামতকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু পরে লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, ভূমির অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব-সহ গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি পূরণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তিনি বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং সামাজিক সংকট। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। তাই এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা কেন্দ্রের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেন এমএনএস প্রধান।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ছাত্রদের সংকটকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।



















