নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপর নতুন ভাষা বাধ্যতামূলক করে অতিরিক্ত শিক্ষাগত চাপ সৃষ্টি না করার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনা মন্তব্য করেন, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় নবম শ্রেণিতে নতুন ভাষা চালু করা শিক্ষার্থীদের জন্য অযথা চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, তৃতীয় ভাষা চালু করতে হলে তা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করা উচিত।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সম্প্রতি সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) চলতি শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন ছাড় ঘোষণা করেছে। ব্যাপক আপত্তির মুখে বোর্ড জানায়, বর্তমান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না।
বিচারপতি নাগারথনা বলেন, নবম শ্রেণি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাপপূর্ণ সময়। এই সময়ে নতুন ভাষা কেন চালু করা হবে? ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তা শেখানো উচিত। নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর স্কুলে মধ্যম শ্রেণি থেকেই তৃতীয় ভাষা শেখানো হতো, ফলে মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছানোর আগে শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট প্রস্তুত হয়ে যেত।
তিনি কেন্দ্র সরকার, সিবিএসই, আইসিএসই এবং বিভিন্ন রাজ্য বোর্ডের উদ্দেশে বলেন, দশম শ্রেণি বোর্ড পরীক্ষার বছর। অষ্টম শ্রেণির শেষ থেকেই পরীক্ষার চাপ শুরু হয়ে যায়। তাই নবম শ্রেণিতে নতুন ভাষা চালু করবেন না, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করুন।
তামিলনাড়ু সরকারের করা একটি আবেদনের শুনানির সময় এই মন্তব্য করেন বিচারপতি নাগারথনা। মামলাটি ছিল রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় (JNV) স্থাপন সংক্রান্ত। তামিলনাড়ু সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, জেএনভিতে অনুসৃত তিন-ভাষা নীতি রাজ্যের দুই-ভাষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও এই মামলায় সিবিএসই-র তিন-ভাষা নীতির বৈধতা সরাসরি বিচারাধীন ছিল না, তবে শুনানির সময় তৃতীয় ভাষা চালুর সময়কাল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে সিবিএসই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা বাধ্যতামূলক হবে। এমনকি নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষার বই ব্যবহার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্কুল, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে ২৯ জুন সিবিএসই এককালীন ছাড় ঘোষণা করে জানায়, বর্তমান নবম শ্রেণির পাশাপাশি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীরাও আগের ভাষা-সমন্বয় বজায় রাখতে পারবে। পাশাপাশি, বর্তমান ব্যাচের ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণভাবে হবে এবং তা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না।
এদিকে, ১৫ মে-র সিবিএসই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হওয়ার কথা।
শুনানির সময় বিচারপতি নাগারথনা স্পষ্ট করেন যে, তিন-ভাষা নীতিতে কোথাও হিন্দি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, রাজ্যের ভাষা, ইংরেজি এবং যে কোনও তৃতীয় ভাষা শেখানো যেতে পারে। কোথাও হিন্দি বাধ্যতামূলক বলা হয়নি।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে শুধুমাত্র কেন্দ্রের উদ্যোগ বলে প্রত্যাখ্যান না করার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা থাকতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের স্কুলগুলিকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১১ আগস্ট।
























