নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দেওয়ার জন্য দুষ্কৃতী ও জঙ্গিদের আন্দোলনস্থলে ঢোকানোর পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো। উদ্দেশ্য, বিক্ষোভকারীদেরই সহিংস হিসেবে তুলে ধরে কঠোর দমনপীড়নের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা। এমনই দাবি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পিওকের আন্দোলনের শুরু থেকেই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে বলপ্রয়োগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও ধরনের সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, এবার পরিকল্পনা করা হয়েছে কিছু দুষ্কৃতী ও জঙ্গিকে বিক্ষোভস্থলে ঢুকিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার। এরপর সেই ঘটনার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে তাদেরই আক্রমণাত্মক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয়’ বলে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্রের মতে, আন্তর্জাতিক মহল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতিমধ্যেই পিওকে-তে পাকিস্তানি বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় অস্থিরতার কারণে ইসলামাবাদের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যে পিওকের আন্দোলন পাকিস্তান সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, এর আগেও পাকিস্তান এই আন্দোলনের পিছনে ভারতের মদত ও অর্থায়নের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করেছিল। সম্প্রতি বিক্ষোভ চলাকালীন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক ব্যক্তিকে জেএএসি সদস্যরা আটক করেন। তিনি নিজেকে পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিলেও তাঁর কাছে ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক তাঁকে ওই নোটগুলি বিক্ষোভস্থলে ফেলে আসতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, আন্দোলনকে ভারতের মদতপুষ্ট বলে প্রচার করার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
জেএএসি এবং পাকিস্তানের প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক ১৫ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারকে তাদের দাবি পূরণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের শুল্ক এবং প্রশাসনিক সংস্কার-সহ বিভিন্ন দাবির সমাধান না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলে জেএএসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।



















