News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমির সমীক্ষা করবে রাজ্য, শিল্পোন্নয়নে পুনর্ব্যবহারের নীতি আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
Image

বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমির সমীক্ষা করবে রাজ্য, শিল্পোন্নয়নে পুনর্ব্যবহারের নীতি আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

কলকাতা, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): বন্ধ বা অচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা চালিয়ে সেগুলিকে শিল্পোন্নয়নের কাজে কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যে নতুন নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর।

নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমান বিজেপি সরকার আগের বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি থেকে সরে এসে এই জমিগুলিকে মূলত রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে ব্যবহার করার পথে হাঁটতে চায় না। পরিবর্তে, অব্যবহৃত জমি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্লাস্টার গড়ে তোলা এবং সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে।

নবান্নের এক আধিকারিক আইএএনএস-কে জানান, কোনও জমির একটি অংশে যদি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের অনুমতি দেওয়া হয়ও, তা হবে একেবারে সীমিত পরিসরে এবং শুধুমাত্র তখনই, যখন ওই অংশে শিল্প বা উদ্যোক্তা-ভিত্তিক কোনও কার্যকর বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া যাবে না।

রাজ্য সরকার এই জমিগুলির ক্ষেত্রেও তাদের নতুন ‘ডিরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ’ বা সরাসরি জমি ক্রয় নীতি অনুসরণ করবে। অর্থাৎ, সরকার জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কিনে পরে শিল্পোন্নয়নের উদ্দেশ্যে তা বরাদ্দ করবে।

একইসঙ্গে, বামফ্রন্ট আমলে রাজ্যের বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)-এ বরাদ্দ হওয়া কিন্তু বর্তমানে অব্যবহৃত জমিগুলিরও সমীক্ষা করা হবে। সেই জমিও শিল্প স্থাপন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নবান্ন সূত্রের দাবি, এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য তিনটি—রাজ্যে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজ্যের নিজস্ব কর আদায় বাড়ানো।

উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে এসইজেড গড়ে শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তাদের নীতিগত অবস্থানের কারণে নতুন কোনও এসইজেড অনুমোদন দেয়নি।

এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সব ধরনের প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ‘ডিরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ’ নীতি। শিল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন কিংবা আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই সরকার সরাসরি জমি কিনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বরাদ্দ করবে।

এছাড়া, শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য জমির প্রাপ্যতা বাড়াতে আরবান ল্যান্ড (সিলিং অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৬ (ইউএলসিআরএ)-এর পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

Releated Posts

‘আকাশ আনন্দ এখনও পরিণত নন, বড় দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত নন’: গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ভাইপোকে সরানোর ইঙ্গিত মায়াবতীর

লখনউ, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র জাতীয় আহ্বায়ক আকাশ আনন্দকে বড় দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত অনীহা…

ByByNews Desk Sep 3, 2026

বাংলায় দুর্নীতি তদন্ত: তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সংস্থায় বিচারবিভাগীয় কমিটির তল্লাশি

কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কথিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে…

ByByNews Desk Sep 3, 2026

বিহারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ৮টি প্রধান নদী

পাটনা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের আটটি প্রধান নদী তাদের নিজ নিজ…

ByByNews Desk Sep 3, 2026

রাজস্থানে পুরভোটের আগে উচ্চবর্ণের অসন্তোষ, চাপে বিজেপি-কংগ্রেস

জয়পুর, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় আনুগত্য, জাতপাতের সমীকরণ, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তি…

ByByNews Desk Sep 3, 2026
Scroll to Top