নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ জুলাই: মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৭০তম পর্বে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ ভার্চুয়ালি উত্তর ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ২৭ জনের চিকিৎসা সহ নানা সমস্যার সমাধান করেন।
সাহায্য প্রত্যাশী মানুষদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে আদিম জনজাতি গোষ্ঠী রিয়াং সহ সমস্ত জনজাতিদের সহায়তা করার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জনজাতিদের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলির সুযোগ সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দিতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনও অবস্থাতেই যেন দূরবর্তী অঞ্চলের সাহায্য প্রার্থীরা বঞ্চিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে এবং এরফলে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে আরও অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। রাজ্যে রেফারেল হাসপাতালগুলিতে ধীরে ধীরে ডিজিটালি চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর ত্রিপুরা জেলার মত রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ ওয়েবসাইট খোলা হবে। আজ এই কর্মসূচিতে উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাল্য বিবাহ, মাদকাসক্তি, গার্হস্থ্য হিংসা, শিশু শ্রম সহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে তৈরি ‘যোদ্ধা’ ওয়েবসাইটের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে উত্তর ত্রিপুরা জেলার জম্পুইহিল থেকে ভিএল সাইমা, জবিরুং রিয়াং, লাচুইতি রিয়াং এবং পুষ্পরামপাড়ার হেমন্ত রিয়াং, ডাইনছড়া থেকে অর্চনা নাথ, রামবাহাদুর পাড়ার অনিত নাথ, আনন্দসাগর পাড়া থেকে বৃক্ষরাম রিয়াং, সেতু দোয়ার পাড়া থেকে ব্রতকুমার রিয়াং, বসনচন্দ্র পাড়া থেকে খুমরাইবতি রিয়াং, লংকারাই পাড়া থেকে অর্জবতি রিয়াং, ফাল্গুনজয় পাড়া থেকে খুমছারবতি রিয়াং সহ অনেকে চিকিৎসা সহায়তা সহ দিব্যাঙ্গ, বিধবা, বার্ধক্য ভাতার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে ভার্চুয়ালি উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত তাদের ভাতার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে জম্পুইহিলের সাবুয়াল ভিলেজের লাইমনোয়ালি বাড়ির সি লাল মুঙ্গানা থাংপাড়ি, রামভদ্রপাড়ার অনিল নাথ, দক্ষিণ লালজুরি ভিলেজের প্রমিলা দাস তাদের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া শিবনগর ভিলেজের সুশান্তি নমঃ তার বাসস্থানের সমস্যা, মকুমছড়া ভিলেজের ধীরেন্দ্র নাথ ছেলের বিকল্প কর্মসংস্থানের সমস্যা, সালখাহাম ভিলেজের পশুরাম রিয়াং বিকল্প কর্মসংস্থানের সমস্যা, মাকুমছড়া ধীরেন্দ্র নমঃ তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সমস্যার কথা জানান। এছাড়া লঙ্গাই ভিলেজ থেকে কৃপাজয় রিয়াং ও শাখান সেরমুন থেকে ভক্তিরাম রিয়াং তাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের তাদের সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দেন। এছাড়া রায়মানী পাড়া থেকে মাধবী রিয়াং তার পড়াশোনায় সাহায্যের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত সাহায্য করার নির্দেশ দেন।
আজ মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব পি. কে. চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার দাস, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, অটল বিহারী রিজিওনাল হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. শিরোমনি দেববর্মা সহ স্বাস্থ্য ও অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকগণ। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক চান্দনী চন্দ্রন সহ জেলাস্তরের আধিকারিকগণ।
কাঞ্চনপুর: কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ ভার্চুয়ালি ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আগরতলার টিআইএফটি-এর ওয়ার রুম থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাঞ্চনপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভাব অভিযোগ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় শোনেন। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকগণকে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভাব অভিযোগের বিষয়গুলির দ্রুত সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের নাগরিক অংশগ্রহণমূলক যোদ্ধা পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর ত্রিপুরা জেলার নাগরিকগণ নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি, গার্হস্থ্য হিংসা, শিশুশ্রম সহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করতে পারবেন। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিগণ পরিচয় গোপন রেখে কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও রক্তদান সহ বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিগণ এই পোর্টালে তাদের নাম নিবন্ধন করতে পারবেন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পোর্টালটি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
























