নয়াদিল্লি, ১৫ জুলাই: অনশনরত জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় বুধবার কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি সরকারকে জবাব দিতে নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টির জরুরি গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামীকাল ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে তাদের জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ায় সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁর জীবন রক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়।
আবেদনে ১৪ জুলাই প্রকাশিত সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল, অনশনরত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৮.২৫ কেজি কমে গেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে ওয়াংচুকের জন্য যথাযথ চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
উল্লেখ্য, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকার কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতে পারে না, যা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ১০৮ ধারায় বর্ণিত ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’-র মতো অপরাধের সামিল হতে পারে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কার্যত সেই অপরাধে প্ররোচনার শামিল বলে গণ্য হতে পারে।
রাকেশ কুমার সাইনি আদালতে বলেন, সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে তাঁর সম্মতি ছাড়াই উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা উচিত। আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁকে অবিলম্বে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে তরল খাদ্যের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তাঁর জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।



















