শ্রীনগর, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) চলমান অশান্তিতে সাধারণ মানুষ ও পুলিশকর্মীদের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ মৌলানা উমর ফারুক। বুধবার এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ করা এক পোস্টে তিনি মানবজীবনের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও সংযমের আহ্বান জানান।
মিরওয়াইজ তাঁর পোস্টে বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) ওপারে, বিশেষ করে রাওয়ালাকোট এবং পুঞ্চ এলাকায় চলমান অশান্তিতে সাধারণ নাগরিক ও পুলিশকর্মীদের মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই দুঃসময়ে তাঁর প্রার্থনা ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক কাশ্মীরি রাজ্যবাসীর প্রতিনিধিত্ব, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, পরিচয়, প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক অধিকারের মতো বিষয়গুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এগুলির সমাধান সংলাপ, জনআস্থা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
মিরওয়াইজ বলেন, একটি শাসনব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও শক্তি নির্ভর করে জনগণের সম্মতি, আস্থা এবং বিশ্বাসের ওপর। জম্মু ও কাশ্মীরের দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় একপাশের ঘটনা অন্যপাশের মানুষের মনেও গভীর প্রভাব ফেলে।
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণরেখার দুই পাশের মানুষের সামাজিক, শিক্ষাগত, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উন্নয়নের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এলওসি-র ওপার থেকে বহু মানুষের উদ্বেগ ও কষ্টের বার্তা তিনি পাচ্ছেন বলেও জানান।
এই পরিস্থিতিতে মিরওয়াইজ পাকিস্তান সরকার এবং পিওজেকে-র স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি সংযম প্রদর্শন, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা এবং মানবাধিকার ও মানবজীবনের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদেরও শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আবেদন করেন।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষেরই দ্রুত শান্তি ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা উচিত। জম্মু ও কাশ্মীরের দুই পাশের মানুষের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান আন্দোলন বুধবার টানা ৩৭তম দিনে পড়েছে। মঙ্গলবার রাওয়ালাকোটে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। সেখানে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতা সর্দার আমান খান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অঞ্চলটি জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ তোলেন এবং পিওজেকেকে “বিতর্কিত অঞ্চল” নয়, বরং “অধিকৃত অঞ্চল” বলে দাবি করেন।



















