গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): অসমের সত্র প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর বৈষ্ণব ঐতিহ্য একে অপরের থেকে অবিচ্ছেদ্য বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার বিধানসভায় রাজ্য বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বাজেটের প্রতিশ্রুতি, চা-বাগান শ্রমিকদের ভূমির অধিকার এবং পেনশন সংস্কার নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও অনেকেই সত্র এবং বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তবে সময়ের সঙ্গে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছেন। সত্র এবং বৈষ্ণব ঐতিহ্য যে একই ধারার অংশ, তা বুঝতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। একবার মানুষ বিষয়টি উপলব্ধি করলে সব ভুল ধারণা দূর হয়ে যাবে।”
চা-বাগান শ্রমিকদের ভূমির অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকার যে জমির পাট্টা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে জমির পাট্টা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে আরও ১.৫ লক্ষ পরিবার পাট্টা পাবে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
বাজেটে এই প্রকল্পের আলাদা উল্লেখ না থাকার সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চা-বাগান শ্রমিকদের কল্যাণ কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং তাঁর সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।
পুরনো পেনশন প্রকল্প (ওপিএস) পুনরায় চালুর দাবির প্রসঙ্গেও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, সরকার ন্যাশনাল পেনশন স্কিম (এনপিএস) বহাল রেখেছে এবং বিকল্প হিসেবে ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) চালু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ১.৫ লক্ষেরও বেশি কর্মী ইতিমধ্যেই এনপিএস-এর আওতায় রয়েছেন এবং বহু ক্ষেত্রে এই প্রকল্প অবসরের পর আরও ভালো সুবিধা দেবে। কর্মীরা চাইলে এনপিএস-এ থাকতে পারবেন অথবা ইউপিএস বেছে নেওয়ার সুযোগও পাবেন।
বিরোধীদের সমালোচনা করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগের বাজেটে ঘোষিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে তারা কোনও প্রশ্ন তোলেনি। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত স্যাটেলাইট প্রকল্প, প্রোটন থেরাপি কেন্দ্র এবং রাজ্যের নিজস্ব ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।
তিনি জানান, স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রোটন থেরাপি কেন্দ্রের জন্য খুব শীঘ্রই বরাত দেওয়া হবে এবং রাজ্যের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
























