ব্রাসেলস, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে বন্দর, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার ঝুঁকি হ্রাস (সাপ্লাই চেইন ডি-রিস্কিং) নিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত প্রথম ভারত-বেলজিয়াম কৌশলগত সংলাপে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন।
বৈঠকের পর এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে এবং এদিনের আলোচনা ভারত, বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে আরও উচ্চাভিলাষী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, জন-চলাচল (মোবিলিটি) এবং ওষুধ শিল্পে সহযোগিতার পাশাপাশি বন্দর, সামুদ্রিক ক্ষেত্র, সেমিকন্ডাক্টর এবং সরবরাহ শৃঙ্খলার ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে সম্ভাবনাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম এশিয়াসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
এর আগে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন কেন্দ্র, স্টার্টআপ এবং হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাহারিয়েভা বলেন, ইউরোপ এবং ভারত একসঙ্গে উদ্ভাবনে কাজ করলে শুধু নতুন প্রযুক্তিই তৈরি হবে না, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও নির্ধারিত হবে। তিনি জানান, হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা এবং প্রায় পাঁচ লক্ষ স্টার্টআপকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ দুই পক্ষের যৌথ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বৈশ্বিক প্রভাব তৈরিতে সহায়তা করবে।
জয়শঙ্কর ইউরোপীয় কমিশনের আরেক কমিশনার জোজেফ সিকেলার সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে সংযোগ ব্যবস্থা, ত্রিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব, ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডর (আইএমইসি) এবং পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহণ (গ্রিন শিপিং) নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও বেলজিয়ামের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত দেশগুলির আরও গভীরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমান শক্তিশালী সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, রাসায়নিক শিল্প, লজিস্টিকস এবং উৎপাদন শিল্পের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ কৌশলগত চরিত্র অর্জন করছে এবং প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি।
জয়শঙ্কর জানান, বর্তমানে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, তথ্য সুরক্ষা চুক্তি, মোবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি পরিষদ এবং গ্লোবাল গেটওয়ে ও হরাইজন ইউরোপ-এর মতো ইউরোপীয় উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, বাজারে প্রবেশাধিকার, সংযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিকস এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পড়ছে। তাই সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল, বৈচিত্র্যময় এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।



















