ঢাকা, ১৪ জুলাই : ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের তথ্য ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি বিশ্বের সেরা আইনজীবীদের নিয়ে আসুন, তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা তার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই, কারণ আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে দেশের মানুষ মৃত্যুদণ্ড বহাল দেখতে চায়। তার ভাষায়, দেশের মানুষ চান, তিনি যে অপরাধ করেছেন তার জন্য ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক এবং সেই রায় কার্যকর হোক। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি বিশ্বের সেরা আইনজীবীদের নিয়ে আসুন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। সরকার পতনের পর তিনি ঢাকা ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, দণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে ঢাকা।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার জানান, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচিত হবে। জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রক্রিয়াগত কোনো বিষয়ই তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা হবে না। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
জাহেদ উর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি-বিডি) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির সুযোগ থাকবে এবং বিচারকার্যের ভিডিও সম্প্রচারও করা হবে।
তিনি বলেন, আদালত চাইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় সংশোধন করতে পারে, এমনকি তাকে খালাসও দিতে পারে। সেটাও হতে পারে, মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকারের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-বিডি) গঠন করেছিল। অতীতে এই ট্রাইব্যুনালের একাধিক রায় উচ্চ আদালতে স্থগিত বা বাতিল হওয়ার নজিরও রয়েছে।
























