ঢাকা, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উঁচু ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, এই গ্রেফতারি “দুর্ভাগ্যজনক” এবং “অগ্রহণযোগ্য”।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই পলাশবাড়ী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে আটক করা হয়। পরে ওই রাতেই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি অর্থপাচার মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান গ্রেফতারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলি প্রস্তাবিত রামমূর্তির বিরোধিতা করে আসছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দেশজুড়ে অযৌক্তিক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক অস্থিরতা রোধের স্বার্থে বিদ্বেষ ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা উসকে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং যিনি নিজেই সাম্প্রদায়িক হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন, সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেফতারি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
ঐক্য পরিষদ অবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের হুমকি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের সমান অধিকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (এইচআরসিবিএম)-ও এই গ্রেফতারির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উত্তেজনা, উগ্রপন্থী হুমকি এবং বিরোধিতার পরিবেশের মধ্যেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এইচআরসিবিএম জানিয়েছে, তারা আগেই বাংলাদেশ প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল যে পলাশবাড়ীর মন্দির, প্রস্তাবিত রামমূর্তি, ভক্ত এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংগঠিত চাপ, ভয়ভীতি, ধর্মীয় স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার দাবি এবং হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান বাড়ছিল।
সংগঠনটির আরও দাবি, যদি অর্থপাচারের অভিযোগটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, হিন্দু পরিচয় বা একটি হিন্দু ধর্মীয় স্মারক নির্মাণের উদ্যোগের কারণে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে এই গ্রেফতারিকে বিবেকবন্দির ঘটনার স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
























