কিনশাসা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করেছে। দেশটির পাঁচটি প্রদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৭৩। এর মধ্যে ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রবিবার (স্থানীয় সময়) প্রকাশিত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে শুক্রবার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, হাউত-উয়েলে এবং চোপো প্রদেশে সংক্রমণের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিস্থিতি প্রতিবেদনে হাউত-উয়েলে ও চোপো প্রদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, হাউত-উয়েলে ও চোপোতে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণ ইতুরি প্রদেশে অবস্থিত প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসংখ্যার চলাচলের মাধ্যমে মহামারিগতভাবে যুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ৭৬৩ জন রোগী আইসোলেশনে রয়েছেন অথবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে শয্যা দখলের হার ৯৫.১ শতাংশে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত ৩০৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া ২৯৯টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বান্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাব গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে শনিবার আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানায়, ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় কর্মরত এক মার্কিন মানবিক সহায়তা কর্মীর সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আফ্রিকা সিডিসি এক বিবৃতিতে জানায়, স্বাস্থ্যকর্মী, মানবিক সহায়তা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং অন্যান্য কর্মীরা অত্যন্ত চাপের মধ্যে থেকেও সংক্রমণ শনাক্ত করা, রোগীদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত মার্কিন মানবিক সহায়তা কর্মীকে ঘিরে মহামারিগত তদন্ত, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন, তা এখনও তদন্তাধীন।
আফ্রিকান ইউনিয়নের জনস্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী বান্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
























