ম্যানিলা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): টাইফুন ‘বাভি’ এবং শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সম্মিলিত প্রভাবে ফিলিপাইনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮-তে পৌঁছেছে। এখনও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির অফিস অব সিভিল ডিফেন্স ।
রবিবার (স্থানীয় সময়) ওসিডি জানায়, অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস এবং ডুবে যাওয়ার ঘটনায়। দুর্যোগে দেশজুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিপাইন অ্যাটমোসফেরিক, জিওফিজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, টাইফুন ‘বাভি’-র প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে দেশের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যা বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজও চলছে। এদিকে, উত্তাল সমুদ্রের কারণে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে শত শত যাত্রী আটকে পড়েছেন।
অন্যদিকে, টাইফুন ‘বাভি’-র প্রভাবে চীনেও বন্যা মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরের নবম টাইফুন ‘বাভি’ শনিবার রাতে পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলে দু’দফায় আছড়ে পড়ে এবং পরে স্থলভাগে প্রবেশ করে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রদেশের প্রায় ৪২ শতাংশ এলাকাকে প্রভাবিত করেছে।
ঝেজিয়াং প্রাদেশিক জরুরি ব্যবস্থাপনা দফতরের প্রধান প্রকৌশলী হু ইয়াওওয়েন জানান, ১৯৪৯ সালের পর জুলাই মাসে ঝেজিয়াংয়ে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন এটি। এর বিশাল আকার ও প্রবল শক্তির কারণে উপকূলে উঁচু ঢেউয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এলাকাতেও আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বেড়েছে।
























