চামোলি, ১৩ জুন (আইএএনএস): শ্রী বদ্রীনাথ ধাম দান চুরি মামলায় নতুন মোড়। তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ৩২ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। অভিযোগ, মন্দিরের দান ও চাঁদার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এই ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারত।
প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছিল, মামলার তদন্তের স্বার্থে বদ্রীনাথ ধামের ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, এর মধ্যে ৩২ দিনের রেকর্ডিং এখনও তদন্তকারী দলের হাতে পৌঁছয়নি। বর্তমানে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা মুছে যাওয়া ফুটেজ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
এর আগে, শ্রী বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের দান ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করে মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে যে ভক্তদের দান ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা শুধু একবার নয়, একাধিকবার ঘটেছে। চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ১৮ পাতার রিপোর্টে পুরো ঘটনা এবং তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।
তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে একাধিক সুপারিশও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মন্দিরের দান গণনার ঘরে আরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মন্দির প্রদক্ষিণ পথের সমস্ত ‘ব্লাইন্ড স্পট’-কে ক্যামেরার আওতায় আনা।
সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারী দল ঘটনার আগের মাত্র ১৪ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করতে পেরেছে। আগে স্থাপিত ক্যামেরাগুলির মান নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলির স্টোরেজ ক্ষমতাও সীমিত ছিল এবং সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করা যেত।
জানা গেছে, ২ জুলাইয়ের ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অর্থ আত্মসাত করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি তার আগের ১৪ দিনের ফুটেজের কিছু অংশও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে তদন্তকারী দল।
এদিকে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি ৭ জুলাই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চেয়ারম্যানের দফতরে কর্মরত ব্যক্তিগত সহকারী প্রমোদ নৌটিয়ালকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়।
এর আগে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির জারি করা নির্দেশে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে প্রমোদ নৌটিয়ালের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এরপর ৩ জুলাই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। মামলার সুষ্ঠু ও বিস্তারিত তদন্ত নিশ্চিত করতে চার সদস্যের তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন প্রাপ্ত ব্যাখ্যা এবং কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করার পর অভিযোগগুলির প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কমিটি।



















