News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • আমি গান্ধীজি নই, প্রয়োজনে আবারও খুন করব”— সাজাপ্রাপ্ত খুনির মন্তব্যে চাঞ্চল্য কেরল আদালতে
Image

আমি গান্ধীজি নই, প্রয়োজনে আবারও খুন করব”— সাজাপ্রাপ্ত খুনির মন্তব্যে চাঞ্চল্য কেরল আদালতে

পালাক্কাড, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): “আমাকে ফাঁসি দিতে পারেন, তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। প্রয়োজন হলে আরও মানুষকে শেষ করে দেব। আমি গান্ধীজি নই।” — পালাক্কাডের আদালতে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন দ্বৈত খুন মামলায় দোষী সাব্যস্ত চেন্তামারা।

সোমবার পালাক্কাড অ্যাডিশনাল সেশনস কোর্ট কেরলের আলোচিত পোথুন্ডি জোড়া খুন মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। সাজা ঘোষণার আগে বিচারক অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে চাইলে কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি চেন্তামারা। বরং নিজের কাজকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করার চেষ্টা করেন তিনি।

আদালতে তিনি বলেন, বিচারক যদি তাঁর জীবনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেন, তাহলে হয়তো একই কাজ করতেন। এরপর তিনি বলেন, “আপনি যে শাস্তি উপযুক্ত মনে করেন, সেটাই দিন।” আগামী বুধবার এই মামলায় সাজা ঘোষণা করা হবে।

কেরলের অন্যতম নৃশংস প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল এই রায়ের মাধ্যমে।

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি পালাক্কাড জেলার পোথুন্ডিতে সুধাকরণ এবং তাঁর ৭৫ বছর বয়সি মা লক্ষ্মীকে হত্যার অভিযোগে চেন্তামারার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালে। সেই সময় নিজের প্রতিবেশী সাজিথাকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন চেন্তামারা। তাঁর অভিযোগ ছিল, সাজিথার কারণে তাঁর বিবাহিত জীবনে ভাঙন ধরেছিল। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে ২০২২ সালে জামিনে মুক্তি পান।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জামিনের শর্ত ভেঙে চেন্তামারা গোপনে পোথুন্ডিতে ফিরে এসে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। আগে থেকেই সংগ্রহ করা একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তিনি সুধাকরণের বাড়ির সামনে তাঁকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

ছেলের আর্তচিৎকার শুনে লক্ষ্মী বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁকেও আক্রমণ করা হয় এবং তাঁর মৃত্যু হয়।

হত্যার পর চেন্তামারা কাছের মাত্তাই জঙ্গলে পালিয়ে যান। দু’দিন ধরে ব্যাপক তল্লাশির পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই জোড়া খুন ছিল আরও বড় একটি পরিকল্পনার অংশ। অভিযোগ, তাঁর সম্ভাব্য ‘টার্গেট’ তালিকায় ছিলেন বিচ্ছিন্ন স্ত্রী, মেয়ে, পুলিশ আধিকারিক জামাই, শ্যালক এবং এলাকার আরও তিন মহিলা।

প্রসিকিউশনের ৪৮০ পাতার চার্জশিটে ফরেনসিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেশ করা হয়। মামলায় ১৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে চারজন বিরূপ হলেও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

আদালতের বাইরে নিহত সুধাকরণের পরিবার ফের চেন্তামারার মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এখনও তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন এবং এই নৃশংস অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড ছাড়া প্রকৃত বিচার সম্ভব নয়।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পুষ্পা জানান, প্রাণভয়ের কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবার গত ১৫ মাস ধরে তামিলনাড়ুতে বসবাস করছেন।

পুষ্পা বলেন, “ওকে ফাঁসি দেওয়া উচিত।”

Releated Posts

নয়ডার জেলাশাসকের দফতর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ই-মেলে, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন

গ্রেটার নয়ডা (উত্তরপ্রদেশ), ১৩ জুলাই (আইএএনএস): গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক (ডিএম) মেধা রূপমের দফতর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি-ইমেল ঘিরে…

ByByTaniya Chakraborty Jul 13, 2026

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় তৃণমূলের আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইডি

কলকাতা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী) দায়ের করা আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল এনফোর্সমেন্ট…

ByByTaniya Chakraborty Jul 13, 2026

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করুন, সোনম ওয়াংচুককে বাঁচান’— ‘সামনা’য় কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শিবসেনা (ইউবিটি)-র

মুম্বই, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): উদ্ভাবক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয়…

ByByTaniya Chakraborty Jul 13, 2026

আপদা মিত্র’ প্রকল্পে গুজরাতে প্রশিক্ষিত ৪,৫২৬ স্বেচ্ছাসেবক, ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণের লক্ষ্য

গান্ধীনগর, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলতে ‘যুব আপদা মিত্র’ প্রকল্পের প্রথম…

ByByTaniya Chakraborty Jul 13, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top