বেঙ্গালুরু, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): কন্যাদের চাকরি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কেপিএসসি)-এর চেয়ারম্যান শিবশঙ্করাপ্পা এস. সাহুকারকে সোমবার সাসপেন্ড করলেন রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। রাষ্ট্রপতির পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সাসপেনশন বহাল থাকবে।
রাজ্যপালের বিশেষ সচিব আর. প্রভুশঙ্কর জারি করা সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কেপিএসসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য সংবিধানের ৩১৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেছেন রাজ্যপাল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহুকার বেআইনি উপায়ে তাঁর দুই মেয়েকে শিল্প সম্প্রসারণ আধিকারিক (ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সটেনশন অফিসার) পদে নিয়োগ পেতে সাহায্য করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের এক মেয়ে পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার টাকা দেখিয়ে আয় ও জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণের সুবিধা নিতে এবং ক্রিমি লেয়ারের আওতার বাইরে থাকতে প্রকৃত তথ্য গোপন করে কম আয়ের তথ্য জমা দিয়েছিলেন, যদিও পরিবারের প্রকৃত আয় নির্ধারিত সীমার বেশি ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই প্রার্থী জানতেন যে তাঁর বাবা তখন কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০২ সালের ৩ মার্চের সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সন্তানরা কর্ণাটকে অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান ও তাঁর মেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের জমা দেওয়া আয় ও সম্পত্তির হিসাব এবং অন্যান্য নথিপত্র প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম কোর্টে তদন্তের জন্য বিষয়টি পাঠানোর সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং কেপিএসসির মর্যাদা বজায় রাখার লক্ষ্যে সাহুকারকে রাষ্ট্রপতির পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
























