প্যারিস, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশে হেফাজতে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। সংগঠনটি এই ঘটনাগুলির নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
জেএমবিএফ-এর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের এক কর্মী এবং এক অভিযুক্ত ব্যক্তির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। সংগঠনটি বলেছে, এই ঘটনাগুলি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা, স্বাস্থ্য অধিকার এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতা ৪০ বছর বয়সি মণিরুজ্জামান মণির মাতুব্বর গত ৮ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হেফাজতে থাকাকালীন মারা যান। জেএমবিএফ জানিয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কিন্তু হেফাজতে থাকার সময় তিনি যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা পাননি, যার ফলে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্য একটি ঘটনায়, কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সি রুবেল মিয়ার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হেফাজতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জেএমবিএফ বাংলাদেশের সরকারের কাছে দ্রুত একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তদন্তটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে স্বাধীন ফরেনসিক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
জেএমবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহানুর ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রের হেফাজতে কোনও মৃত্যুর ঘটনাই সর্বোচ্চ মাত্রার বিচারিক নজরদারি দাবি করে, কারণ স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের জীবন ও সুরক্ষার ওপর রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি নির্যাতন বা পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগগুলি তদন্ত ছাড়াই থেকে যায় এবং দায়ীদের শাস্তি না হয়, তবে তা আইনের শাসনকে দুর্বল করে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমায় এবং দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি করে।”
জেএমবিএফ-এর অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে ধরনের অভিযোগ উঠেছিল, নতুন করে গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও তার ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের জেল হেফাজতে চিকিৎসার অভাব এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি হেফাজতে মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কার্যকর প্রতিকার দেওয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



















