News Flash

  • Home
  • দেশ
  • বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে নগর ভূমি সীমা আইন সংশোধনের ভাবনা রাজ্য সরকারের
Image

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে নগর ভূমি সীমা আইন সংশোধনের ভাবনা রাজ্য সরকারের

কলকাতা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য জমির প্রাপ্যতা বাড়াতে আরবান ল্যান্ড (সিলিং অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৬-এ সংশোধনের কথা ভাবছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে জমি অধিগ্রহণ নীতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার পর এবার নগর এলাকার জমি সংক্রান্ত বিধিনিষেধেও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

১৯৭৬ সালের এই আইন অনুযায়ী, কলকাতা, আসানসোল এবং খনিজসমৃদ্ধ পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ও নগর এলাকায় নির্দিষ্ট সীমার বেশি ব্যক্তিগত খালি জমি রাখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল।

আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল জমি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ও বেআইনি মজুত রোধ করা। তবে বাস্তবে এটি রাজ্যে শিল্প ও পরিকাঠামো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

রাজ্য সচিবালয়ের সূত্রের খবর, আইনটির বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। বিনিয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করা বিধানগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে জমি জল্পনা রোধে থাকা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলি বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, শিল্পমহলের একাংশ আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের পক্ষে থাকলেও সরকার বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নির্দিষ্ট কিছু ধারায় সংশোধনের পথেই এগোতে পারে।

২০২৬-২৭ সালের রাজ্য বাজেট পেশের পর অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আইএএনএস-কে জানান, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য জমি সংক্রান্ত নিয়ম সংস্কার এবং ইউএলসিআরএ পর্যালোচনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, আইনটি বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেকটাই পুরনো এবং এর কিছু বিধান শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, পুরনো সমাজতান্ত্রিক সময়ের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই আইন বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। তাই বিনিয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করা কিছু বিধান সংশোধন বা বাতিল করার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে, নতুন রাজ্য সরকারের জমি নীতি নিয়ে অর্থনৈতিক ও শিল্প মহলের পর্যবেক্ষকরাও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমি নীতির থেকে বর্তমান নীতি সম্পূর্ণ আলাদা।

পূর্ববর্তী সরকারের সময় শিল্প প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন বা এমনকি বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য বিএসএফের জমির প্রয়োজন হলেও জমি সংগ্রহে রাজ্য সরকারের সরাসরি ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার অবশ্য একটি অভিন্ন জমি সংগ্রহ নীতি ঘোষণা করেছে। সেই নীতি অনুযায়ী, সরকার সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে পরে নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য তা হস্তান্তর করবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএলসিআরএ পর্যালোচনা এবং নতুন সরাসরি জমি কেনার নীতি একসঙ্গে কার্যকর হলে বড় শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে।

Releated Posts

পাটনায় ভীম আর্মির ‘রাইটস মার্চ’, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একাধিক কর্মী আটক

পাটনা, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): বিহারে সরকারি চাকরিতে ৮৫ শতাংশ ডোমিসাইল কোটা চালুর দাবিতে শনিবার পাটনায় ‘রাইটস মার্চ’ করল…

ByByNews Desk Aug 29, 2026

(Update) ‘কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি’: বাংলার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মাংস বিক্রি বিতর্কে স্পষ্টীকরণ ভিএইচপি প্রধানের

নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ও তার আশপাশে মাংস বিক্রি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট…

ByByNews Desk Aug 29, 2026

স্কুলশিক্ষার মান নিয়ে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ‘কোনও জেলাই ৬০ শতাংশ পার করেনি’

ভোপাল, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের জেলাসমূহের কর্মক্ষমতা গ্রেডিং সূচক (পিজিআই-ডি) ২০২৫-২৬ রিপোর্ট সামনে রেখে মধ্যপ্রদেশের স্কুলশিক্ষার…

ByByNews Desk Aug 29, 2026

‘দেশ ছেড়ে নয়, ঘরে থেকেই লড়াই’: বিদেশি নিয়োগ থেকে ‘হোমগ্রোন র‍্যাডিক্যালাইজেশন’-এ কৌশল বদল আইএসের

নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল-কায়েদায় যোগ দিতে দেশ ছেড়ে সিরিয়া, ইরাক কিংবা আফগানিস্তানে যাওয়ার…

ByByNews Desk Aug 29, 2026
Scroll to Top