তিরুবনন্তপুরম, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): শবরীমালা মন্দিরে কথিত আর্থিক অনিয়মের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র কাজ আদালতের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কার্যত থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কেরলের দেবস্বমমন্ত্রী কে. মুরলিধরন। তদন্তকে যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছাতে রাজ্য সরকারের আরও বেশি প্রশাসনিক স্বাধীনতা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এই মামলায় এসআইটি ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ত্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিক-সহ এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় গ্রেফতার হওয়া সকলেই জামিন পেয়ে গেছেন।
সোমবার মুরলিধরন স্পষ্ট করে বলেন, বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া বা আদালতের কর্তৃত্বকে খর্ব করার কোনও ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে তাঁর মতে, প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং সরকারের কোনও ভুল হলে আদালত তা সংশোধন করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, “সরকারের কাজ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। কোথাও ভুল হলে আদালত অবশ্যই তা সংশোধন করতে পারে।”
তদন্তের ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দ্রুত চার্জশিট জমা না হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ বিলম্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডের ভূমিকাও সমালোচনা করেন মুরলিধরন। শবরীমালা মামলায় সন্দেহের তালিকায় থাকা তাঝামন তন্ত্রি (প্রধান পুরোহিত) পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাঁর ছেলেকে ওই পদে নিয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বোর্ড বিষয়টি আদালতের বিবেচনার জন্য পাঠায়। মন্ত্রী এই পদক্ষেপকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেন।
হিন্দু ঐক্য বেদির নেতাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সাথীশনের সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে মুরলিধরন বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে।
এছাড়া ত্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের আরও বেশি স্বাধীনতার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিচার বিভাগের ভূমিকা সংশোধনমূলক হওয়া উচিত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নয়।



















