কলকাতা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং দুষ্কৃতী দমনে প্রণীত ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ সোমবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
গত ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিলটি উত্থাপন ও পাস হয়। পরে রাজ্যপালের সম্মতি পাওয়ার পর তা আইনে পরিণত হয়।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংঘবদ্ধ সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির তুলনায় এই আইনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।
প্রথমত, কোনও ব্যক্তিকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক-এ রাখার সুযোগ থাকবে।
এই বিধানকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশের অভিযোগ, আইনটি অত্যন্ত কঠোর এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে পুলিশ ইচ্ছামতো কাউকে আটক করতে পারে এবং বিরোধী মত দমনেও আইনটি ব্যবহার হতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল বিজেপির দাবি, প্রতিরোধমূলক আটক কোনওভাবেই স্বেচ্ছাচারী হবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এই উদ্দেশ্যে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আটক যুক্তিসঙ্গত কি না তা পর্যালোচনা করবে। আটক ব্যক্তি নিজের পক্ষে প্রতিনিধিও নিয়োগ করতে পারবেন। বোর্ডের প্রধান থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি এবং তাঁর সঙ্গে হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন আরও দু’জন সদস্য থাকবেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই আইন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং যাদের বিরুদ্ধে বারবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে।
আইনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিধান অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা প্রয়োগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও রাজ্য সরকারের হাতে থাকবে।
এছাড়া, কোনও ব্যক্তির উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ তাকে ওই এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বা সেখান থেকে বহিষ্কার করতে পারবে। আইন বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ও সরকারি কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’-এরও বিধান রয়েছে। জেলা শাসক বা পুলিশ সুপার পদমর্যাদার বা তার ঊর্ধ্বতন কোনও আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি বিশেষ এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন, তবে তাঁকে ওই এলাকা বা গোটা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া যাবে।
























