চড়িলাম, ১২ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পরিষেবার নানা সমস্যায় ভুগছেন চড়িলাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এবার চড়িলাম গ্রাম উন্নয়ন ব্লক সংলগ্ন বিদ্যুৎ অফিসে কর্মীদের ভূমিকা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগের খোঁজ নিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সামনে অফিসের এক কর্মীকে দপ্তরের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। অভিযোগ, বারবার প্রশ্ন করার পরও তিনি বর্তমান মন্ত্রীর নাম বলতে ব্যর্থ হন এবং একপর্যায়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চড়িলাম এলাকায় সামান্য বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলেও দাবি তাঁদের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা হয় না এবং অনেক সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও যথাসময়ে জানানো হয় না। এর ফলে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন এবং সাধারণ পরিবারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে একই সমস্যার প্রতিবাদে দক্ষিণ চড়িলামের বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও এখনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এছাড়াও বিদ্যুৎ অফিসের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। অফিসের পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা এবং কর্মীদের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে কিছু বিদ্যুৎ সংযোগে বকেয়া বিল এবং সংযোগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চড়িলামের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পান।



















