কলকাতা, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের ভিসেরা নমুনা ও রিপোর্টে কারচুপির অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-কে নির্দেশ দিল কলকাতার শিয়ালদহ আদালত।
শনিবার দক্ষিণ কলকাতার শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিবিআই-কে অবিলম্বে এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২ জুলাই নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি, একটি চিঠির মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন যে তাঁদের মেয়ের ভিসেরা নমুনায় কারচুপি করা হয়েছে এবং সেই কারণে চূড়ান্ত ভিসেরা রিপোর্ট বিকৃত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কলকাতার বেলগাছিয়ায় অবস্থিত রাজ্য ফরেন্সিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে (স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি) ভিসেরা নমুনা পরিবর্তন করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষাগারের তিনজন আধিকারিক জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা আবেদনে দাবি করা হয়, আরজি কর মামলার ভিসেরা রিপোর্ট বিকৃত করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে নির্দেশ দেয় যে, আরজি কর মামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্তের পাশাপাশি ভিসেরা নমুনা সংক্রান্ত কারচুপির অভিযোগও সিবিআই তদন্ত করবে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহেই রাজ্য সরকার আরজি কর মামলায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়িয়েছে।
সাসপেনশনে থাকা ওই তিন আধিকারিক হলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (উত্তর বিভাগ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডিসি (মধ্য বিভাগ) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক সমাজ, নাগরিক সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হন। পরবর্তীতে এই আন্দোলনের প্রভাব দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল এবং ডিসি অভিষেক গুপ্তের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। একই সময়ে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগের মুখে পড়েন। প্রবল জনচাপের জেরে রাজ্য সরকার পরে বিনীত কুমার গোয়েল ও অভিষেক গুপ্তকে বদলি করলেও ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে তৎকালীন পদেই বহাল রাখা হয়।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ মে রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর আরজি কর মামলার নথি পুনরায় খোলার, অভিযুক্ত তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার ঘোষণা করা হয়।
























