মুম্বই, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : মহারাষ্ট্র সরকারের পুণ্যশ্লোক অহল্যাদেবী হোলকার ঋণ মকুব প্রকল্প-এর বিতর্কিত শর্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বড় জয় বলে দাবি করলেন এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, কৃষক, বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
রোহিত পাওয়ার জানান, গত ২ জুন রাজ্য সরকার ৩৬,৫৮৫ কোটি টাকার ঋণ মকুব প্রকল্প ঘোষণা করেছিল, যার মাধ্যমে প্রায় ৫৬ লক্ষ কৃষক উপকৃত হওয়ার কথা ছিল।
তবে তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পটির সঙ্গে এমন কিছু জটিল ও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ৩৫ লক্ষেরও বেশি কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল দুটি শর্তকে ঘিরে। প্রথমত, ২০১৯ সালের ঋণ মকুব প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। রোহিত পাওয়ারের মতে, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহণ ব্যয়ের লাগামছাড়া বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে এই শর্ত অত্যন্ত অন্যায্য ছিল।
দ্বিতীয়ত, প্রণোদনা ভর্তুকি পাওয়ার জন্য প্রথমে ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে অন্তত দু’বছর সময়মতো ফসল ঋণ শোধ করার শর্ত ছিল। পরে সরকার আরও একটি শর্ত যুক্ত করে, যেখানে ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ঋণও পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। রোহিত পাওয়ারের দাবি, এর ফলে কার্যত চার বছরের ঋণ শোধ না করলে কৃষকেরা প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হতেন।
তিনি জানান, এই শর্তের প্রতিবাদে ১২ থেকে ১৪ জুন পাঁধরপুরে কৃষক ও আন্দোলনকারীরা অনশন শুরু করেন। পরে মন্ত্রী গিরিশ মহাজনের আশ্বাসে সেই অনশন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিশ্রুত পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ।
এরপর ২৯ জুন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে হাজার হাজার কৃষক এলগার মর্চা-য় অংশ নেন।
রোহিত পাওয়ার বলেন, ১ জুলাই তিনি এবং কৃষক প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক করে তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরেন যে, প্রকল্পের শর্তগুলি কৃষকদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৩ এবং ৮ জুলাই ঋণ মকুব কমিটির প্রধান প্রবীণ সিং পরদেশীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ৮ জুলাই নির্ধারিত আলোচনায় কৃষক নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও সরকারি আধিকারিকরা আসেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি বিধানসভায় বারবার উত্থাপন করা হয়।
রোহিত পাওয়ারের দাবি, শেষ পর্যন্ত এই চাপের মুখে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বিধানসভায় ঘোষণা করেন যে, ঋণ মকুব প্রকল্পের বিতর্কিত শর্তগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে রোহিত পাওয়ার আন্দোলনে অংশ নেওয়া কৃষক, বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, সংবাদমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, আজ রাজ্যের হাজার হাজার কৃষকের দাবি সফল হয়েছে। এটি কৃষকদের ঐক্যের জয়।



















