আগরতলা, ১১ জুলাই: কোর্ট ম্যারেজের নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে পৈতৃক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুটিয়া বিধানসভার কালিবাজার এলাকার এক পরিবার। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী পরিমল দাস ও তাঁর পরিবারের দাবি, ২০১২ সালে সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাঁদের মেয়ে লিপিকা দাসের বিয়ে হয় খোয়াই জেলার বাসিন্দা অন্তু দাসের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তু দাস কোর্ট ম্যারেজের আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলে পরিমল দাসের কাছ থেকে কয়েকটি স্ট্যাম্প পেপার ও অন্যান্য নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা নিরক্ষর ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ায় নথির বিষয়বস্তু না বুঝেই জামাইয়ের কথায় বিশ্বাস করে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ওই নথির মাধ্যমে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ও জমি অন্তু দাসের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের পর অন্তু দাস লিপিকা দাসকে বাংলাদেশে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি নেই। এছাড়া, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তু দাস বাংলাদেশে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্ত পারাপারে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করতেন। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, বাংলাদেশে থাকাকালীন লিপিকা দাস শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে পরিবারের উদ্যোগে তাঁকে গর্ভবতী অবস্থায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন পর অন্তু দাস আদালতের নথি নিয়ে এসে বাড়ির দখল নিতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, কোর্ট ম্যারেজের নামে স্বাক্ষর করানো নথির মাধ্যমে সম্পত্তি তাঁর নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে দাবি করেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, এর আগেও কোমলপুর এলাকায় অন্তু দাসের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। এছাড়া, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাঝেমধ্যেই এলাকায় এসে পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং তাঁর সঙ্গে কিছু ভূমি দালাল বা জমি মাফিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘ আইনি লড়াই চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



















