নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শনিবার জানিয়েছে, রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স লিমিটেড সংক্রান্ত মামলায় আরও ১,০২১ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-এর অধীনে রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপ-সংক্রান্ত মামলাগুলিতে মোট সংযুক্ত সম্পত্তির মূল্য বেড়ে ২০,৩৬৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ইডি জানিয়েছে, একাধিক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই দায়ের করা একাধিক এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে আরএইচএফএল এবং আরসিএফএল-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে এখনও পর্যন্ত উঠে এসেছে যে, আরএইচএফএল এবং আরসিএফএল-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১৫,৫৪৮ কোটি টাকার সরকারি অর্থ পরিকল্পিতভাবে একাধিক শেল কোম্পানি এবং গ্রুপভুক্ত সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় ছিল।
ইডির দাবি, নতুন করে সংযুক্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিকানাধীন রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের ইকুইটি শেয়ার, পাশাপাশি সাসান পাওয়ার লিমিটেড এবং রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড-এর কাছ থেকে প্রাপ্য নির্দিষ্ট ঋণের অর্থও।
বর্তমানে ইডি পিএমএলএ এবং ফেমা-এর অধীনে রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পিএমএলএ-এর অধীনে চারটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) এবং ফেমা-এর অধীনে তিনটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে ইডি ইতিমধ্যে ৮০টিরও বেশি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া ফেমা-এর অধীনে আরও ৭৭.৮৬ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।
ইডির তথ্য অনুযায়ী, এই মামলাগুলিতে এখনও পর্যন্ত রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সকলেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ইডি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইডি ই-কমপ্লেক্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং সংস্থাটির এক পরিচালকের আবাসনে তল্লাশি চালায়। ওই অভিযানে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির বিবৃতি অনুযায়ী, তল্লাশি চলাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, স্থাবর সম্পত্তি-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং ব্যাংক জালিয়াতি মামলার তদন্তে সহায়ক বিভিন্ন প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।



















