নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : ইউরোপের বিশাল সৌরবিদ্যুৎ পরিকাঠামো চীনা হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলার মুখে গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে এক নতুন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইনভার্টার-এ হার্ডওয়্যার ব্যাকডোর ব্যবহার অথবা একযোগে বিপুল সংখ্যক ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার আপডেট পাঠানো হলে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটানো তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব।
ব্রাসেলসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্রাসেলস সিগন্যাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনভার্টার হল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার “ইলেকট্রনিক মস্তিষ্ক”, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ গ্রিডে ব্যবহারের উপযোগী বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক ইনভার্টারগুলিকে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হয়। এই কারণেই এগুলি সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপে নতুন স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির প্রায় ৮০ শতাংশেই চীনে তৈরি ইনভার্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে হুয়াওয়ে এবং সাংগ্রো-র মতো চীনা সংস্থাগুলি বাজারে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চীনের ২০১৭ সালের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ল অনুযায়ী, এই ধরনের সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সহযোগিতা করতে আইনগতভাবে বাধ্য করা হতে পারে।
প্রতিবেদনটির মতে, ইউরোপের এই উচ্চমাত্রার নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, বরং তা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য একটি নজিরবিহীন কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনও বৈরী পক্ষ এই সংযুক্ত ইনভার্টারগুলির উপর দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে প্রচলিত সামরিক হামলা ছাড়াই ইউরোপের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে প্রায় ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো বর্তমানে ২২০ গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।
এতে দাবি করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি কার্যত ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে তুলে দেওয়ার সমতুল্য।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল ব্যবহার করে চীনা ইনভার্টার কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে এই পদক্ষেপকে দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কম দামের চীনা আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণসহ উপস্থাপিত হয়নি। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চীনা সংস্থাগুলির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।



















