News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান নিয়ে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, মুখোমুখি বিজেপি ও বিরোধীরা
Image

জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান নিয়ে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, মুখোমুখি বিজেপি ও বিরোধীরা

নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গান পরিবেশন সংক্রান্ত কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে শনিবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, কেন্দ্র কোনও বিষয় জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না এবং শিক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বিজেপি এই পদক্ষেপকে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ) সম্প্রতি সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর এবং রাজ্যপালদের দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান পরিবেশনের সময় নির্ধারিত পাঠ, উচ্চারণ, শব্দচয়ন এবং প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এনসিপি (শরদ পওয়ার)–এর জাতীয় মুখপাত্র নাসিম সিদ্দিকি বলেন, সরকার কোনও কিছুই নাগরিকদের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না।

তিনি আরও দাবি করেন, মুসলিমরা ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে পারেন না, কারণ তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তারা একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করেন। তাই তাঁরা জাতীয় গানের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়াতে পারেন, কিন্তু ধর্মবিশ্বাসে অটল একজন মুসলিম এটি গাইবেন না।

কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেন, কেন্দ্রের উচিত এই ধরনের নির্দেশিকার পরিবর্তে শিশুদের শিক্ষার উপর জোর দেওয়া। তাঁর কথায়, শিক্ষাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়া উচিত।

কংগ্রেস নেতা রাকেশ সিনহা বলেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিক জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গানকে যথাযথ সম্মান করেন। তাই এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় গানের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের ক্রম নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা কী। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত একসঙ্গে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান এবং পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এগুলি ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা, গর্ব এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাই সঠিক উচ্চারণ ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগুলি পরিবেশন করা প্রত্যেক নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

বিজেপি সাংসদ দিনেশ শর্মাও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো পদক্ষেপ। সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ জাতীয় গান গাওয়ার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করছে।

বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনওয়াজ হুসেন বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ সর্বত্র সম্মান ও গর্বের সঙ্গে গাওয়া উচিত। এ বিষয়ে একটি পরামর্শ জারি করা হয়েছে। বিহারে এটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সর্বত্র বাস্তবায়িত হবে।

জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান সংক্রান্ত কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে রাজনৈতিক মতভেদ আরও তীব্র হয়েছে। যেখানে বিরোধীরা বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন, সেখানে বিজেপির দাবি, এই পদক্ষেপ জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা ও সম্মান আরও সুদৃঢ় করবে।

Releated Posts

‘তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত’: আইআইটি দিল্লির সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): আইআইটি দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী…

ByByNews Desk Aug 8, 2026

‘কোনও শর্ত নয়, ২০২৩ সালের আইনই কার্যকর করুন’: মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে রিজিজুকে পাল্টা রাহুলের

নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন…

ByByNews Desk Aug 8, 2026

‘মহিলাদের নিয়ে রাহুল গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন স্পষ্ট’, মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থনের আহ্বান রিজিজুর

নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পেলে কোনও দেশই প্রকৃত উন্নতি করতে পারে…

ByByNews Desk Aug 8, 2026

সাইবার প্রতারণায় ‘মানি মিউল’ অ্যাকাউন্টের ব্যবহার, তামিলনাড়ু জুড়ে পুলিশের বড়সড় অভিযান

চেন্নাই, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): অনলাইন আর্থিক প্রতারণায় চুরি করা টাকা গ্রহণ, স্থানান্তর ও গোপন করতে ব্যবহৃত ‘মানি মিউল’…

ByByNews Desk Aug 8, 2026
Scroll to Top