আগরতলা, ২৫ আগস্ট: বিজেপি ও জোটসঙ্গী তিপরা মথার মধ্যে থাকা মতবিরোধ আগামী দিনে আরও প্রকট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করলেন সিপিআই(এম)-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। আজ তিন দিনের ত্রিপুরা সফরে আগরতলায় এসে এমবিবি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন মধ্য দিয়ে বামপন্থীরা ফের শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এম এ বেবি বলেন, বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণে ইতিমধ্যেই নানা বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই দুই দলের মধ্যে সমস্যাও আরও বাড়বে বলে তিনি দাবি করেন।
টিটিএএডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত এবং শারীরিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে বেবি বলেন, এই ঘটনাগুলি শাসক রাজনৈতিক সমীকরণের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধেরই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, আগামী দিনে এই দলগুলির অভ্যন্তরীণ সমস্যা আরও সামনে আসবে।
এদিন ত্রিপুরার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য করা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়া নিয়েও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন বেবি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে তিপ্রা মথা। সেই প্রেক্ষাপটে বেবির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বেবি দাবি করেন, ত্রিপুরায় বামপন্থীরা নিজেদের সংগঠন ও জনভিত্তি পুনরায় শক্তিশালী করছে। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব ও মহিলাদের বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে বামপন্থীদের বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে উঠছে বলেও তিনি জানান।
যন্তর মন্তরে বামেদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়। দেশের বিভিন্ন অংশে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব ও মহিলাদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে উঠছে। ত্রিপুরাতেও বিশেষ করে আগরতলায় শ্রমিকদের বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি জনজীবনের নানা সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
বেবির বক্তব্য, বিজেপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে যে আন্দোলন গড়ে উঠছে, আগামী দিনে তা বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, ত্রিপুরাতেও বাম শক্তিশালী হচ্ছে, কেরল এবং অন্যান্য রাজ্যেও।এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান সিপিআই(এম)-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, “নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সরকারের শেষ দিন গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করে বিজেপি আর রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের চাপে সরকারকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে। এই আন্দোলনে সিপিআই(এম)-ঘনিষ্ঠ কর্মী, এআইএসএ এবং অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করে বেবি বলেন, বিজেপির ছাত্রবিরোধী শিক্ষা নীতি প্রত্যাহার করতে হবে।
বিহারের যে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে উপনির্বাচনে দলের পরাজয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ফলাফল বিজেপির দীর্ঘদিনের নির্বাচনী আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব, তারই ইঙ্গিত দিয়েছে।
























