আগরতলা, ২৪ আগস্ট: এডিসিতে বেআইনি নিয়োগ বাতিল, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ এবং ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল দ্রুত পাসের দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় জিএমপি ও টিএসইউ-এর উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা অংশ নিয়ে তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এডিসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, যেসব নিয়োগকে তাঁরা বেআইনি বলে দাবি করছেন, সেগুলি বাতিল করে অবিলম্বে শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি জানান, এডিসির প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল দ্রুত পাস করার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার অধিকার, স্বশাসন ও সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘসূত্রিতা না করে বিলটি দ্রুত সংসদে পাস করার জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি জানানো হয়।
অবস্থান বিক্ষোভে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এডিসির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হন এদিন। তিনি অভিযোগ করেন, কোনও ধরনের তদন্ত, নোটিশ কিংবা নির্ধারিত নিয়মকানুন অনুসরণ না করেই এডিসিতে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে এই গণ অবস্থান বলে জন্য তিনি।
এদিন তিনি বিজেপি ও তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে একে অপরের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে এডিসিতে সঠিকভাবে নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন, ত্রিপুরার আদিবাসী অংশের নতুন প্রজন্মকে নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিপরাল্যান্ড, ভূমি ও সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলিকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
বিজেপি ও তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে এডিসি এবং সরকারের সম্পদ লুটের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে এর অবসানের দাবিতে এই অবস্থান-বিক্ষোভের আয়োজন বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি দাবি জানান, অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এডিসিতে স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনে নিয়োগ ও নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এডিসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাবি জানানো হলেও এখনও প্রত্যাশিত সমাধান মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথে নেমেছেন।
কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এডিসির নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা, শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা এবং ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল দ্রুত পাসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এদিনের অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে স্বামী বিবেকানন্দ মাঠ এলাকায় সংগঠনের সদস্য-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান তুলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন আন্দোলনকারীরা।