নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ অক্টোবর: মেলাঘরের রাজঘাটে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নীরমহল জল উৎসব আজ সমাপ্ত হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে উৎসব শুরু হয়েছিল। আজ সমাপ্তি অনুষ্ঠানে রুদ্রসাগরে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নীরমহল হচ্ছে একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এর স্থাপত্য হল রাজন্য সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। নীরমহলের সৌন্দর্য্যের সুনাম শুধু ত্রিপুরাতে কিংবা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, সারা ভারতবর্ষ সহ বিদেশেও নীরমহল সম্পর্কে সকলে অবগত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ হল নীরমহল। একে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
নীরমহল উৎসবের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের গ্রামীণ সংস্কৃতি, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ ও অর্থনীতির সুযোগ সৃষ্টি করাই হল এই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি নীরমহল জল উৎসব বছরে একবার না করে কয়েকবার আয়োজন করার জন্য পরামর্শ দেন। এতে মানুষ আরও বেশি আকৃষ্ট হবে এবং এর মাধ্যমে এই পর্যটনক্ষেত্র পুরো বিশ্বের দরবারে গুরুত্ব পাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে বিদেশী পর্যটকগণ এখানে এলে এই এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নীরমহল জল উৎসবের আয়োজক এই উৎসবের সহযোগিতাকারী বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল। অনুষ্ঠানে এছাড়াও অতিথি হিসাবে সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা, মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীবাস ভৌমিক, মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনামিকা ঘোষ পাল রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মনসামঙ্গল প্রতিযোগিতা, দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতা এবং নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা ও অন্যান্য অতিথিগণ বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।