আগরতলা, ৮ অক্টোবর: ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়। এদিন আগরতলায় কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানান প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন, গতকাল পুলিশ যেভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদ ও প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে আচরণ করেছে, তার প্রতিবাদেই এদিন রাস্তায় নেমেছে কংগ্রেস।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “গতকাল যে অমানবিক অত্যাচার ও পুলিশের জুলুম দেখলাম, তার মধ্যে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, খাড়গে এবং ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদ ও সিনিয়র নেতাদের যেভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি। গণতন্ত্র বাঁচানোর লক্ষ্যে এবং জ্ঞানেশ কুমারের অনতিবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন।”
তিনি আরও বলেন, “জ্ঞানেশকে যেতে হবে এবং আমরা এই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব—এই শপথ নিয়েই আজ রাস্তায় নেমেছি।”
কংগ্রেস বিধায়কের দাবি, পশ্চিম জেলার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই এদিন দলীয় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
কালো পোশাক পরার কারণ ব্যাখ্যা করে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই সময়কে কংগ্রেস ‘কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করার অধিকারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলন করতে রাস্তায় নামলে পুলিশ দিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না, রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না, পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হবে—এভাবে দেশ চলতে পারে না।”
এদিনের কর্মসূচি থেকে সাধারণ মানুষকেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে বিভিন্ন দাবি জানাবেন বলেও জানান সুদীপ রায় বর্মন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে তাদের দাবিগুলি তুলে ধরা হবে। দেশজুড়ে এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও কর্মসূচি থেকে বার্তা দেওয়া হয়।



















