নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে বৃহস্পতিবার গভীর শোকপ্রকাশ করলেন এনডিএ-র একাধিক নেতা। তাঁরা বলেন, সমাজের কল্যাণ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল। কৃষকদের কল্যাণে তাঁর কাজ এবং হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি বলেন, নানা পাটেকর তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। কৃষকদের জন্য, জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এবং কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে নানা পাটেকর অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
গডকরি বলেন, সামাজিক সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সমাজের প্রতি সংবেদনশীলতা নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান বহু বছর ধরে মানুষ মনে রাখবে বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেন, নানা পাটেকর চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত বিশিষ্ট নাম ছিলেন। মারাঠিভাষী হোন বা হিন্দিভাষী—সব ধরনের দর্শকই তাঁকে দেখেছেন এবং ভালোবেসেছেন। নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের আরেক উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেন, নানা পাটেকরের প্রয়াণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। চলচ্চিত্র শিল্প, ভারত এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি নানা পাটেকরের গোটা জীবন নিবেদিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিনয় এমন গভীর ছাপ ফেলেছিল যে সমাজের সব স্তরের মানুষ তাঁর অভিনয়কে গ্রহণ ও প্রশংসা করেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভরও এই বিশিষ্ট অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি। নিজের দল এবং রাজ্যের মানুষের পক্ষ থেকেও নানা পাটেকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজভর।
বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বলেন, নানা পাটেকরের মৃত্যু দেশের পাশাপাশি শিল্পী সমাজের জন্যও বড় ক্ষতি। চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের জগতে নিজের প্রতিভার মাধ্যমে তিনি বিশিষ্ট স্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর শিল্প ও অভিনয়ের যথাযথ প্রশংসা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নানা পাটেকর তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতিও তুলে ধরেছিলেন বলে জানান যাদব।
পাঞ্জাবের রাজ্যপাল গুলাব চাঁদ কাটারিয়া নানা পাটেকরের প্রয়াণকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি নানা পাটেকরকে বলিউডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশিস শেলার বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে নিজের অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় জীবনে নানা পাটেকর হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়। পরবর্তী সময়ে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান তিনি।
‘সালাম বম্বে!’ এবং ‘পরিন্দা’-র মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। পরে ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘যশবন্ত’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ এবং ‘রাজনীতি’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।



















