সোনামুড়া, ৮ অক্টোবর: প্রতিহিংসার জেরে রাতের আঁধারে ৫৩টি রাবার গাছের চারা কেটে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মধ্যরাতে যাত্রাপুর থানা এলাকার বাঘাইয়াচর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কাঠালিয়া ব্লকের নির্ভয়পুর পঞ্চায়েত এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাইয়াচর গ্রামে সোনামুড়া-বিলোনিয়া বাইপাস সড়কের সামান্য পশ্চিমে মামন মিয়ার বসতবাড়ি। বাড়ি সংলগ্ন প্রায় আধাকানি টিলা জমিতে মাস দুয়েক আগে তিনি রাবারের চারা রোপণ করেছিলেন। শ্রমজীবী পরিবারের এই গাছগুলিকে ঘিরেই ভবিষ্যতে কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামন মিয়া, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সংসার করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অন্যের বাড়িতে ও বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। আর্থিক অনটনের মধ্যেও ভবিষ্যতের আশায় রাবারের চারাগুলি লাগিয়েছিলেন তাঁরা।
বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া সেরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেই সুযোগে কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী প্লাস্টিকের নেট কেটে জমির ভিতরে ঢুকে একে একে ৫৩টি রাবারের চারা কেটে ফেলে। রাতের কোনও একসময় ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে মামন মিয়া দেখতে পান, জমিতে লাগানো রাবারের চারাগুলির একটিও আর অক্ষত নেই।
ঘটনার পর তিনি প্রতিবেশী হাবিল মিয়াকে বিষয়টি জানান এবং যাত্রাপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। তবে পরিবারের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তখন আর কিছু করার নেই জানিয়ে পুলিশ সকালে ফের আসার কথা বলে চলে যায়।
এদিকে সকালে ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামন মিয়ার স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের জমিটি খাসজমি নয়, দীর্ঘদিনের জোতের জমি। সেই কারণেই কারও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁদের রাবারের চারাগুলি নষ্ট করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
তিনি বলেন, “কাউকে সন্দেহ হচ্ছে। কিন্তু চোখে দেখিনি, তাই এখনই কারও নাম বলতে পারছি না। পুলিশের কাছে আমাদের আবেদন, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে এর পিছনে কারা রয়েছে এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খুঁজে বের করা হোক।”
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অন্যের কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। রাবারের গাছগুলি বড় হলে ভবিষ্যতে কিছুটা আয় হবে, এই আশাতেই কষ্ট করে চারাগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সব গাছ কেটে দেওয়ায় তাঁদের সেই আশাও কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



















