নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে একটি পরামর্শপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ডিপফেকের ক্রমবর্ধমান বিপদ মোকাবিলাকেই এই পরামর্শপত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে বৈষ্ণব বলেন, “আমি দফতরকে একটি নিয়ন্ত্রণ-কেন্দ্রিক পরামর্শপত্র প্রকাশ করতে বলব, যেখানে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
ডিপফেককে সমাজের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় ডিপফেককে সত্যি বলে বিশ্বাস করেন। এর ফলে ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি হয় এবং মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে পরিচালিত হতে পারেন।
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত পরামর্শপত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়েন, সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে। এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানুষের ওপর এর প্রভাবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বৈষ্ণব বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এআইকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি ‘টেকনো-লিগ্যাল’ সমাধান তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সাইবার হামলা ও ডিপফেকের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় শিল্পক্ষেত্রকেও প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সরকার চলতি বছর প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া এআই গভর্ন্যান্স গাইডলাইনস’-এ বিশ্বাস, মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা এবং দায়িত্বশীল এআই উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে নীতিগত কাঠামোর কথা তুলে ধরেছে। সেখানে ভুল তথ্য, ডিপফেক, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং এআই ব্যবহারের ফলে অনিচ্ছাকৃত সামাজিক ক্ষতিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া এআই-সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি চিহ্নিত করতে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দায়বদ্ধতা, তথ্য সুরক্ষা, কপিরাইট, কনটেন্টের সত্যতা যাচাই এবং জেনারেটিভ এআইয়ের অপব্যবহারের মতো বিষয় রয়েছে। এআই গভর্ন্যান্স গ্রুপ, টেকনোলজি অ্যান্ড পলিসি এক্সপার্ট কমিটি এবং এআই সেফটি ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’-এর ‘সেফ অ্যান্ড ট্রাস্টেড এআই’ উদ্যোগের আওতায় সরকার ইতিমধ্যেই ডিপফেক শনাক্তকরণ, গোপনীয়তা-সুরক্ষিত এআই, পক্ষপাত কমানো এবং এআই-ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে।



















