ভুবনেশ্বর, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের ডাকা ১২ ঘণ্টার ওড়িশা বনধে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়।
বনধের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। কমিউনিস্ট দল, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও ইন্ডিয়া জোটের নেতা-কর্মীরা পিকেটিং করেন। যুব কংগ্রেসের সদস্যরা বাইক মিছিলও করেন।
যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও ট্রাকের বড় অংশই রাস্তায় নামেনি। বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রেন পরিষেবাও ব্যাহত হয়। রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করলে কোথাও কোথাও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের কর্মী ও নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
জাতীয় সড়কগুলিতে শত শত গাড়ি আটকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ওড়িশার বড় শহরগুলিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থাও বনধের কারণে বন্ধ ছিল।
ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (ওপিসিসি) সভাপতি ভক্তচরণ দাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধ রাজ্যজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও বনধকে সমর্থন করছেন।
তিনি জানান, চারটি দাবিতে এই বনধ ডাকা হয়েছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এমএমডিআর সংশোধনী আইন, ২০২৬ প্রত্যাহার, পাঠ্যপুস্তকে ত্রুটির অভিযোগে ওড়িশার স্কুল ও গণশিক্ষা মন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ডের পদত্যাগ এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অবিলম্বে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ভক্তচরণ দাস বলেন, “শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বনধের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাজার ও পরিবহণ পরিষেবা প্রভাবিত হয়েছে।”
তিনি জানান, পর্যটক এবং রাজ্যের বাইরে থেকে আসা মানুষদের অসুবিধা এড়াতে ভুবনেশ্বরে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবাকেও বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
দাস বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বনধ পালন করছি এবং মহাত্মা গান্ধীর পথ অনুসরণ করছি। কোনও হিংসা হবে না।” একইসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের শান্তি বজায় রাখার জন্য বারবার আবেদন করেছেন। সরকার চারটি দাবি পূরণ না করলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং আগামী দুই মাসে তা বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।



















