আগরতলা, ৮ অক্টোবর: জাতীয় সংহতি ও মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা নিয়ে আজ আগরতলা থেকে বিশেষ মোটরসাইকেল র্যালির সূচনা করল ত্রিপুরা পুলিশ। রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই র্যালি প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গুজরাটের কেভাদিয়ার একতা নগরে গিয়ে শেষ হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আগরতলার এডি নগর পুলিশ মাঠ থেকে র্যালির সূচনা হয়। ত্রিপুরার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিচালক জিএস রাও আনুষ্ঠানিকভাবে র্যালির সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের পদস্থ আধিকারিক এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালিত হয়। দেশের জাতীয় সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর অবদানের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।
র্যালির সূচনার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিএস রাও জাতীয় কর্মসূচিতে ত্রিপুরা পুলিশের অংশগ্রহণকে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই মোটরসাইকেল র্যালি শুধুমাত্র দীর্ঘ পথ অতিক্রমের কর্মসূচি নয়, বরং ঐক্য, অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রতীকী উদ্যোগ।
রাষ্ট্রীয় একতা দিবস দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বার্তা দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এবারের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাদকবিরোধী সচেতনতা। জিএস রাও বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সমাজের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের ওপর পড়ছে। ত্রিপুরার ক্ষেত্রে ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই’ বার্তাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা আরও জোরদার করার বিষয়ে রাজ্যের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
পুলিশ মহাপরিচালক আরও বলেন, শুধুমাত্র পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই জয় করা সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই সমস্যাটিকে গোড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল অতিক্রম করে গুজরাটের একতা নগরে পৌঁছবে এই র্যালি। এতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্যের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের বার্তাও এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
র্যালির যাত্রাপথে বিভিন্ন এলাকায় জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।



















