আবিদজান, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলির প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কোট দিভোয়ারে ভারতীয় টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা আইটিইসি কর্মসূচির প্রাক্তন প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জয়শঙ্কর বলেন, আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল উন্নয়ন অংশীদারিত্ব। আফ্রিকার দেশগুলির প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী ভারত তার সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় আট বছর আগে আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ‘কাম্পালা নীতি’র কথা বলেছিলেন, সেটিই এই অংশীদারিত্বের মূল দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করেছে বলে জানান তিনি।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, আইটিইসি ভারতের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অন্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একইসঙ্গে অংশীদার দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকেও ভারত শিক্ষা নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বছর আইটিইসি কর্মসূচির ৬২ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৬৪ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অংশীদারিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ১৬০টিরও বেশি অংশীদার দেশে আইটিইসি-এর কার্যক্রম বিস্তৃত এবং প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১০ হাজার সম্পূর্ণ অর্থায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।
আইটিইসি-এর আওতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, জনপ্রশাসন, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, কৃষি, জ্বালানি ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশীদার দেশগুলির সামগ্রিক প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে এই বিস্তৃত কর্মসূচি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর।
ভারত ও কোট দিভোয়ারের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গত ১২ বছরে কোট দিভোয়ার আইটিইসি-এর প্রায় ৮০০টি প্রশিক্ষণ স্লট ব্যবহার করেছে।
জয়শঙ্কর জানান, বর্তমানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোট দিভোয়ারের জন্য ১২৩টি এবং অসামরিক ক্ষেত্রে ১০০টি প্রশিক্ষণ স্লট নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের নিয়মিত আদানপ্রদান শুধু দক্ষতা বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোট দিভোয়ারকে পশ্চিম আফ্রিকায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, দেশটির ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, প্রশাসনিক রূপান্তর এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণে ভারত সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, কোট দিভোয়ারের প্রয়োজন মেটাতে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আইটিইসি-এর মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, পরিবর্তনশীল অর্থনীতির চাহিদা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।



















