নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): পশ্চিম সীমান্তে কার্যকলাপ পরিচালনা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) পূর্ব সীমান্তে তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনকে এক ছাতার তলায় এনে তাদের সাংগঠনিক ও কার্যকরী সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আইএসআই।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, বাংলাদেশে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং নিও-জেএমবি-কে নিয়ে কাজ করছে আইএসআই। সংগঠনগুলির নিজস্ব কিছু সক্ষমতা থাকলেও বড় ধরনের অভিযান, বিশেষ করে ভারতে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা তাদের সীমিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, আইএসআই এই সংগঠনগুলিকে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবা-র মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে তিন সংগঠনকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, একই ধরনের উগ্রপন্থী মতাদর্শ অনুসরণ করলেও সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তারা একে অপরের এলাকায় কার্যকলাপ চালানোর ফলে বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তাদের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ওই আধিকারিকের দাবি।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, ২০১৯ সালে জেএমবি-র কথিত প্রধান সালেহউদ্দিন সালেহ জেএমবি, এবিটি এবং নিও-জেএমবি-কে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবকে এবার নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে আইএসআই বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের মতে, এবিটি এই ধরনের একীভূতকরণে রাজি হলেও নিও-জেএমবি-কে নিয়ে সমস্যা রয়েছে। জেএমবি-র অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পর নিও-জেএমবি-র উত্থান ঘটে। নেতৃত্বের বিরোধ, মতাদর্শগত পার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ইসলামিক স্টেটের উত্থান এই বিভাজনের অন্যতম কারণ ছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
গোয়েন্দা সূত্রের আরও দাবি, সংগঠনগুলির মতপার্থক্য মেটাতে আইএসআই সরাসরি তাদের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তিন সংগঠনকে একত্রিত করা সম্ভব হলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক আধিকারিক।



















