নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): একাধিক চেক বাউন্স মামলায় ২ কোটি টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা হিসেবে অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাজপাল যাদবকে অবিলম্বে ১.১৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। তাঁর আইনজীবী জানান, বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা সম্ভাব্য ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সোমবার জমা দেওয়া হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও ভি. মোহনার বেঞ্চ রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবের আবেদন শুনছিল। দিল্লি হাইকোর্ট সাতটি চেক বাউন্স মামলায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রাখার পর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিলেন তাঁরা।
শুনানিতে জানানো হয়, রাজপাল যাদব ১.১৫ কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জোগাড় করেছেন। তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির সম্ভাব্য এক ক্রেতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি অগ্রিম হিসেবে আরও ৮৫ লক্ষ টাকা দিতে প্রস্তুত।
তবে ওই ক্রেতা পিতৃপক্ষের কারণে বর্তমানে সম্পত্তি বিক্রির নথি রেজিস্ট্রি করতে চাইছেন না এবং নবরাত্রি শুরু হওয়ার পর রেজিস্ট্রির কাজ করতে চান বলে আদালতকে জানানো হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সম্পত্তিটির মোট বিক্রয়মূল্য জানতে চায়। আদালত উল্লেখ করে, রাজপাল যাদবের দায় ২ কোটির তুলনায় অনেক বেশি। আইনজীবী জানান, সম্পত্তিটির মূল্য ৩০ কোটিরও বেশি এবং সম্ভাব্য ক্রেতার প্রস্তাবিত অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
অভিযোগকারীর আইনজীবীও প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ২ কোটি টাকা দেওয়া হলে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য রাজপাল যাদবকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া যেতে পারে। এরপর আদালত ১.১৫ কোটি টাকা অবিলম্বে জমা এবং বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা সোমবার জমা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরপর বাকি অর্থ পরিশোধের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানায় বেঞ্চ।
এরই মধ্যে আগের নির্দেশ মেনে চলার ক্ষেত্রে রাজপাল যাদবের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বেঞ্চ ইঙ্গিত দেয়, তাঁর তিন মাসের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে দুই বছর করা হতে পারে।
বিচারপতি বাগচি বলেন, শীর্ষ আদালত রাজপাল যাদবের আচরণে সন্তুষ্ট নয় এবং অভিযোগকারী যাতে অর্থ ফেরত পান, তা নিশ্চিত করতেই তাঁকে আদালতের তরফে বারবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ৫ অক্টোবর আদালত জানিয়েছিল, ১৫ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালত অন্তত ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার জন্য তাঁকে শেষবারের মতো দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তারও আগে আদালত ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
দিল্লি হাইকোর্ট ১০ জুলাই রাজপাল যাদবের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখলেও প্রতিটি মামলায় ছয় মাসের সাজা কমিয়ে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড করেছিল। জরিমানার পরিমাণও ১.৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১.০৫ কোটি টাকা করা হয়েছিল। সাতটি মামলার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, পরবর্তী সময়ে পক্ষগুলির মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা চুক্তি নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। এই মামলায় তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের ‘মি/সে জিম্পেক্স প্রাইভেট লিমিটেড ‘মনোজ গোয়েল’ মামলার রায়েরও উল্লেখ করেছেন।
_______



















