গুয়াহাটি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারত ও মিয়ানমার বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-মিয়ানমার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং মিয়ানমারের চিফ অব আর্মড ফোর্সেস ট্রেনিং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পায়ে সোন লিন যৌথভাবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। গত বছর ইয়াঙ্গুনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জনসংযোগ আধিকারিক ও মুখপাত্র এক্স-এ জানান, চলমান দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে দুই পক্ষ নতুন উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেছে। প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ভূমিকম্পের পর ভারতের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং প্রথম সাড়াদানকারী দেশ হিসেবে ‘অপারেশন ব্রহ্মা’র মাধ্যমে ভারত যে সহায়তা দিয়েছিল, তার জন্য মিয়ানমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
এর আগে মে মাসে তৎকালীন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী মিয়ানমারের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল হেইন উইনের সঙ্গে নেপিডতে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে দুই দেশের নৌবাহিনীর সম্পর্ক আরও জোরদার করা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ বিনিময়, মোবাইল ট্রেনিং টিম, হাইড্রোগ্রাফি এবং দুই দেশের বাহিনীর আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মিয়ানমার সফরের সময় অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল হতুন অংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান পরিসর পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া মিয়ানমার নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল নেভাল কমান্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল অং অং নাইং এবং ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খুন অং কিয়াওয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী। নৌবাহিনী-নৌবাহিনী সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
মিয়ানমারের নেভাল ট্রেনিং কমান্ড পরিদর্শনের সময় অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী ভারতীয় সহায়তায় সম্পন্ন কয়েকটি প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে ছিল কনটেইনারাইজড স্মল আর্মস সিমুলেটর এবং রিজিড ইনফ্ল্যাটেবল বোট। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘মহাসাগর’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
—আইএএনএস



















