গুয়াহাটি, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের পুণেতে একটি নামঘরের উদ্বোধনকে অসমের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার এক উষ্ণ ও আনন্দের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
বুধবার এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুণেতে নামঘর প্রতিষ্ঠা অসমের শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের শিক্ষা ও মহারাষ্ট্রের শ্রদ্ধেয় সাধক সন্ত জ্ঞানেশ্বর এবং সন্ত তুকারাম মহারাজের ভাবধারার এক সুন্দর মিলন ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, “পুণে, মহারাষ্ট্রে অসমের ঐতিহ্যকে একটি নতুন ঠিকানা পেতে দেখে হৃদয় উষ্ণ হয়ে উঠছে।”
শঙ্করদেব, জ্ঞানেশ্বর ও তুকারামের শিক্ষা ভক্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, তাঁদের বার্তা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমারেখা পেরিয়ে মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুণের এই নামঘর অসম ও মহারাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এই উদ্যোগকে তিনি “অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের” মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।
পুণেতে নামঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ‘সারহদ’ সংগঠনকেও অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অসমের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে নামঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নব-বৈষ্ণব আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নামঘর শুধু প্রার্থনার স্থান নয়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
অসমের বাইরে নামঘর প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও পরিচয়কে সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার দৃষ্টান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
শঙ্করদেব, জ্ঞানেশ্বর ও তুকারামের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মধ্যে ভক্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির যে অভিন্ন বার্তা রয়েছে, পুণের এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন বলে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় উঠে এসেছে।
























