আগরতলা, ৮ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ত্রিপুরাতেও ‘কালো দিবস’ পালন করল প্রদেশ কংগ্রেস। কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ পরে আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। এদিন আগরতলা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলকে ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনীর সামনে পুলিশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তির পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আগরতলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, গোপাল চন্দ্র রায়, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পীযুষ কান্তি বিশ্বাস-সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
মিছিলটি রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর সংলগ্ন ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর আন্দোলনকারীদের দিকে জলকামান থেকে জল ছোড়া হয়। ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান।
পরে মিছিল শেষে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দেয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন, দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদ ও প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের প্রতিবাদেই এদিন রাজ্যে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, গতকাল যে অমানবিক অত্যাচার ও পুলিশের জুলুম দেখা গেছে, তার প্রতিবাদেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। গণতন্ত্র রক্ষা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “জ্ঞানেশকে যেতে হবে এবং আমরা এই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব—এই শপথ নিয়েই আজ রাস্তায় নেমেছি।”
কংগ্রেস বিধায়কের দাবি, শুধু পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই এদিন দলীয়ভাবে ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা।
কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ পরার কারণ ব্যাখ্যা করে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বর্তমান সময়কে কংগ্রেস ‘কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করার অধিকারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলেই পুলিশ দিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না, রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না, পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হবে—এভাবে দেশ চলতে পারে না।”
এদিনের কর্মসূচি থেকে সাধারণ মানুষকেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানায় প্রদেশ কংগ্রেস। পাশাপাশি, ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন বলেও জানান সুদীপ রায় বর্মন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে তাদের দাবিগুলি তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে, দেশজুড়ে এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও এদিনের কর্মসূচি থেকে বার্তা দেওয়া হয়।