উত্তর-পূর্বাঞ্চল

মিজোরামে ২.৮৬ কোটি টাকার চোরাই সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ১০

আইজল, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): মিজোরামে চারটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাই সামগ্রী উদ্ধার করল অসম রাইফেলস। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছে। শুক্রবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অসম রাইফেলস অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযানগুলি চালায়। অভিযানে হেরোইন, পোস্তদানা, শুকনো সুপারি এবং বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রথম অভিযানে আইজল জেলার ডিস্ট্রিক্ট এক্সিকিউটিভ ফোর্সের সঙ্গে যৌথভাবে মিজোরামের সেলিং এলাকায় দুটি ট্রাক আটক করে অসম রাইফেলস। ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে মায়ানমার থেকে পাচার করে আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা শুকনো সুপারি ও পোস্তদানা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে মোট ২১০ বস্তা শুকনো সুপারি উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, ৯০ বস্তা পোস্তদানা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা যানবাহন ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য শুল্ক দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযানে চোরাচালানের গোপন খবরের ভিত্তিতে মিজোরামের চম্ফাই জেলার জোখাওথার এলাকার ক্রসিং পয়েন্ট-৩ এবং মুয়ালকাউই এলাকায় অভিযান চালায় অসম রাইফেলস ও শুল্ক দপ্তরের প্রতিরোধী বাহিনী।

অভিযানে মোট ২৮ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আট কার্টন এসি লাইটস এবং ২০ কার্টন ভি-ব্র্যান্ডের সিগারেট রয়েছে। উদ্ধার হওয়া সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এই ঘটনায় মায়ানমারের এক নাগরিক-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রী চম্ফাইয়ের শুল্ক দপ্তরের প্রতিরোধী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযানে মিজোরামের সাইতুয়াল জেলার নগোপা এলাকায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালায় অসম রাইফেলস। সন্দেহভাজন একটি গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি সাবানের কৌটায় রাখা ১৬৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

এই ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদক, গাড়ি ও ধৃতদের নগোপা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইন, ১৯৮৫ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চতুর্থ অভিযানে মিজোরামের সেরছিপ জেলার সাইলিয়ামকাউন জংশন এলাকায় মাদক পাচারের নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালায় অসম রাইফেলস। তল্লাশি চালিয়ে ৫৪.২৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।

এই ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইন ও ধৃতদের সাইলিয়ামকাউন থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মায়ানমার সীমান্তে পাচার রুখতে তৎপরতা

প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মিজোরামের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ আন্তঃসীমান্ত কার্যকলাপ বন্ধ করতে অসম রাইফেলস অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ও অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল অঞ্চলের নৈকট্যের কারণে মিজোরাম ও মণিপুর উত্তর-পূর্ব ভারতে মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ করিডরে পরিণত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পর্যবেক্ষণ।

মিজোরামের ছয়টি জেলা এবং মণিপুরের পাঁচটি জেলা মিলিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে প্রায় ৯১০ কিলোমিটার অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর ফলে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, মায়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, পোস্তদানা, শুকনো সুপারি, বিদেশি সিগারেট, বিভিন্ন ধরনের কাশির সিরাপ, বিরল প্রজাতির প্রাণী এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাচার করা হয়। পরে গোপন পথে এগুলি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এবং বিদেশেও পাঠানো হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের চোরাচালান রুখতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।