মুখ্য খবর

হোটেলের লাইসেন্স দেখতে চাওয়ায় সরকারি আধিকারিককে মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা

কৈলাসহর, ৯ অক্টোবর: হোটেল ও রেস্তোরাঁর লাইসেন্স এবং খাবারের গুণমান পরীক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠল এক সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিকের উপর। অভিযোগের তির হোটেল মালিক সুরজিৎ পালের দিকে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কৈলাসহর থানায় মামলা দায়ের করেছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

আক্রান্ত ফুডসেফটি আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় মহামায়া হোটেলে গিয়ে তিনি মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বিশেষ করে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত লাইসেন্স দেখতে চান। কিন্তু হোটেল মালিক লাইসেন্স বাড়িতে রয়েছে বলে জানান। এরপর  আধিকারিক তাঁকে পরবর্তী দিন অফিসে লাইসেন্স জমা দিয়ে যাচাই করানোর পরামর্শ দেন।

সরকারি আধিকারিকের অভিযোগ, ওই হোটেলের সামনে থাকা তাদেরই আর একটি খাবারের স্টলেও তিনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি হতে দেখেন। সেখানে  বিভিন্ন খাবার বিক্রি করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, খাবার রাখার জায়গাটি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ছিল এবং খাবারটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। হোটেল মালিককে খাবারটি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, পচা খাবার বিক্রি করা হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন। অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আশপাশের অন্যান্য খাবারের দোকানেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হয় বলে দাবি করেন হোটেল মালিক। এর জবাবে স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় বলে দাবি তাঁর।

সরকারি আধিকারিকের আরও অভিযোগ, তাঁকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়ার কথা বলতেই হোটেল মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের স্ত্রীও এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁকে বুকে আঘাত করা হয়, শার্ট ও গলার চেইন ধরে টানাটানি করা হয় এবং পায়ে ও হাতে আঘাত করা হয়, লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন আক্রান্ত আধিকারিক। এই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও জানান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত আধিকারিকের বক্তব্য, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট হোটেলের লাইসেন্স যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ জারি করা। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তাঁকে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সরকারি আধিকারিকের উপর হামলার অভিযোগে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।