নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তানজুড়ে বড়সড় সম্প্রসারণ অভিযান শুরু করেছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে শুধু সিন্ধ প্রদেশেই সাতটি নতুন মার্কাজ ও মসজিদ গড়ে তুলেছে সংগঠনটি। এই পরিকাঠামো তৈরিতে পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপুল আর্থিক সহায়তা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
রাষ্ট্রীয় সহায়তার পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈবা ব্যাপকভাবে তহবিল সংগ্রহও করছে। বিভিন্ন দেশের কাছ থেকেও দাতব্য সংস্থার নাম করে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিক জানান, এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক মার্কাজ ও মসজিদ তৈরি হওয়া স্পষ্ট ইঙ্গিত যে লস্কর-ই-তৈবা বড় আকারে নিজেদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো বিস্তার করছে। সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডাররা কড়া নিরাপত্তায় কনভয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করছেন। সইফুল্লাহ কাসৌরি, তালহা হাফিজ সইদ এবং নাদিম ফয়সলের মতো শীর্ষ নেতারা এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লস্কর-ই-তৈবার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, নতুন মার্কাজ ও মসজিদগুলিকে মূলত যুবকদের সংগঠনে নিয়োগ, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের জনসমাবেশ ও সংগঠনগত কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এগুলি সংগঠনের জনসংযোগ ও প্রচারের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় বড় ক্ষতির মুখে পড়ার পর লস্কর-ই-তৈবা ফের নিজেদের সংগঠন ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ওই অভিযানে মুরিদকের অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছিল। পাহেলগাঁওয়ে ২৬ জনের প্রাণহানির জঙ্গি হামলার পর প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়েছিল।
বর্তমানে সিন্ধ প্রদেশে বেশি জোর দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের জনসংযোগ ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের আরও দাবি, এই ধরনের কর্মসূচিকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে লস্কর-ই-তৈবা তাদের রাজনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলিকেও সামনে রাখছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের কার্যকলাপকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক আধিকারিক জানান, লস্কর-ই-তৈবার সদস্যদের নির্বাচনী প্রচার এবং বড় জনসমাবেশে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে সংগঠনের বক্তব্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরতে পারেন। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতার সঙ্গেও সংগঠনটির যোগাযোগ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য, রাজনৈতিক মূলস্রোতে প্রবেশের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি, বিশেষত ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর নজর এড়ানো।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের মদতেই হচ্ছে। তালহা সইদ বা কাসৌরির মতো ব্যক্তিরা যখন কনভয়ে যাতায়াত করেন, তখন তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত জঙ্গিদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশ রয়েছে বলেই এর থেকে স্পষ্ট হয় বলে ওই আধিকারিকের দাবি।
তবে একদিকে লস্কর-ই-তৈবা নিজেদের মূলস্রোতে আনার চেষ্টা করলেও অন্যদিকে তাদের জঙ্গি কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে বলে ভারতীয় আধিকারিকরা জানিয়েছেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিপুল সংখ্যক জঙ্গিকে জড়ো করা হয়েছে এবং তারা জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্যরাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, লস্কর-ই-তৈবা জম্মু ও কাশ্মীরে তাদের স্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং একই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের উপর সহজে সন্দেহ না পড়ে।
আধিকারিকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে এ ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মাধ্যমে যুবকদের সংগঠনে টেনে এনে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহারের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
_______



















