আগরতলা, ২৫ আগস্ট: ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমে কর্মরত গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে মঙ্গলবার রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সভা করল ত্রিপুরা বিদ্যুৎ কর্মী ইউনিয়ন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিগমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডেপুটেশনে মিলিত হওয়ার জন্য বারবার আবেদন করা হলেও সেই সুযোগ পাওয়া যায়নি। এর প্রতিবাদে এবং বিদ্যুৎ কর্মী ও গ্রাহকদের জরুরি ও ন্যায্য দাবিগুলি তুলে ধরতেই এই বিক্ষোভ সভার আয়োজন করা হয়।
টিবিকেইউ-এর সভাপতি রণবীর রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গাঙ্গুলী কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুব্রত গাঙ্গুলী বলেন, বিদ্যুৎ নিগমে সার্ভিস রুল চালু না হওয়ায় কর্মীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সময়মতো সিনিয়রিটি লিস্ট প্রকাশ, অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগের দাবিও জানান তিনি। নিগমের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার কর্মীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় নিগমকে বহন করার দাবিও জানানো হয়।
এদিনের সভা থেকে বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিষেবার মানোন্নয়ন, রাজ্যে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিগমের বাণিজ্যিক ক্ষতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ওঠে। গ্রাহক স্বার্থে বিদ্যুতের ট্যারিফ নীতি পুনর্বিবেচনারও দাবি জানায় সংগঠনটি।
এছাড়াও ‘বিদ্যুৎ আইন সংশোধনী বিল-২০২৫’ অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে স্লোগান ওঠে। ইউনিয়নের সভাপতি রণবীর রায় অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, মাল্টি-লাইসেন্সিং, আউটসোর্সিং ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিষেবায় বেসরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়লে কর্মচারীদের পাশাপাশি কৃষক ও প্রান্তিক গ্রাহকরাও সমস্যায় পড়বেন।
সংগঠনের বক্তব্য, বিদ্যুৎকে সামাজিক অধিকার হিসেবে বজায় রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র মুনাফাভিত্তিক পণ্যে পরিণত করা যাবে না।
এদিন পাওয়ার ফিনান্স কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির রেটিং ও র্যাঙ্কিং নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিগমের পরিষেবা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মানোন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কর্মীদের ন্যায্য দাবিগুলির দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সংগঠন।



















