জয়পুর, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রচারের যুগে রাজস্থানের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন যেন নিয়ে আসছে পুরনো দিনের নস্টালজিয়া। আসন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত রাজ নির্বাচনে নির্দল প্রার্থীদের জন্য যে নির্বাচনী প্রতীকগুলির তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, তাতে রয়েছে চারপাই, চায়ের কেটলি, চিমটা, জাতা-চাকি, সেলাই মেশিন, স্লেট এবং পুরনো দিনের টেলিফোনের মতো প্রতীক।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন আসন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত রাজ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি দেখে মনে হতে পারে, এটি আধুনিক স্মার্টফোন প্রজন্মের জন্য তৈরি কোনও তালিকা নয়, বরং রাজস্থানের পুরনো দিনের একটি বাড়ির সামগ্রীর তালিকা।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা স্কুটারের মতো আধুনিক সামগ্রী মুক্ত প্রতীকের তালিকায় জায়গা পায়নি। তার পরিবর্তে ভোটাররা এবার প্রার্থীদের প্রচারে চারপাই, হাতচালিত আটা পেষার চাকি, সেলাই মেশিন, কেটলি, চিমটা কিংবা হামানদিস্তার মতো প্রতীক দেখতে পারেন।
প্রতীকগুলি পুরনো দিনের হলেও এর উদ্দেশ্য অত্যন্ত আধুনিক—ব্যালটে প্রার্থীদের সহজে শনাক্ত করার সুযোগ করে দেওয়া।
পুরনো দিনের প্রায় প্রতিটি পরিবারের পরিচিত নানা সামগ্রীই জায়গা পেয়েছে এই তালিকায়। পুরসভা কাউন্সিলের সভাপতি বা চেয়ারম্যান পদে লড়াই করা নির্দল প্রার্থীদের জন্য ৪০টি মুক্ত প্রতীকের মধ্যে রয়েছে স্লেট, পেন্সিল, চিঠির বাক্স, চায়ের কেটলি, চিমটা, হামানদিস্তা, ঐতিহ্যবাহী ইস্ত্রি ও লাঠি-সহ একাধিক প্রতীক।
রাজমিস্ত্রির কর্নিকের মতো ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামও রয়েছে তালিকায়। স্বাধীনভাবে ওয়ার্ড নির্বাচনে লড়াই করা প্রার্থীদের জন্য ৪০টি মুক্ত প্রতীকের তালিকাও বেশ আকর্ষণীয়। কোনও প্রার্থীর পরিচয় হয়ে উঠতে পারে চারপাই, জাতা-চাকি, সেলাই মেশিন, পুরনো টেলিফোন, শিকল, করাত কিংবা বাক্স।
রান্নাঘর ও সবজির বাজারের পরিচিত সামগ্রীও রয়েছে তালিকায়। ফুলকপি, আঙুর ও কাঁচালঙ্কার পাশাপাশি রয়েছে পালতোলা নৌকা, ঠেলাগাড়ি, ইট, ফোয়ারা এবং সাইকেলের পাম্পের মতো প্রতীক।
তরুণ প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রতীক হতে পারে স্লেট, ফ্রক এবং পুরনো দিনের টেলিফোন। দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই জিনিসগুলির ব্যবহার এখন অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে।
নির্দল প্রার্থীদের জন্য এমন নস্টালজিক প্রতীক থাকলেও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি তাদের পরিচিত প্রতীকই ধরে রাখছে। বিজেপির প্রতীক পদ্ম, কংগ্রেসের হাত, বহুজন সমাজ পার্টির হাতি, সিপিআই(এম)-এর হাতুড়ি-কাস্তে-তারা, আম আদমি পার্টির ঝাড়ু এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বই।
রাজস্থানের স্বীকৃত রাজ্য দলগুলির মধ্যে রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (আরএলপি)-র প্রতীক বোতল এবং ভারত আদিবাসী পার্টি (বিএপি)-র প্রতীক ধনুক ও তির।
নির্বাচনী প্রতীকের এই তালিকা বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার এক মজার ছবি তুলে ধরেছে। সামগ্রীগুলি পুরনো দিনের হলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এগুলিই হয়ে উঠতে পারে আধুনিক রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রার্থীদের পরিচয়ের মুখ্য চিহ্ন।
ফলে রাজস্থানে স্থানীয় নির্বাচন হলে ভোটারদের হয়তো স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের বদলে খুঁজতে হবে চারপাই, কেটলি, চিমটা, স্লেট কিংবা জাতা-চাকির মতো প্রতীক। রাজস্থানের এবারের স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালটের পথে তাই দেখা মিলতে পারে পুরনো দিনের ঘরোয়া সামগ্রীর।



















