পালঘর, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার একটি আবাসিক আশ্রম স্কুলের সাত বছরের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগার পর তার মৃত্যু হয়। একই স্কুলের আরও ২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী সর্দি, কাশি ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে মঙ্গলবার প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
মাসওয়ানের ওই আশ্রম স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রটি গত ২২ আগস্ট উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়। তাকে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সোমবার ফের জ্বর বাড়লে পিএইচসির চিকিৎসক দেখতে পান, তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমছে। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে মানোর গ্রামীণ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তার ইসিজি করেন। এরপরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। স্কুলটিতে মোট ৪৪৯ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৩৯৫ জন আবাসিক হিসেবে থাকে। স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল স্কুল চত্বরে থাকা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সর্দি, কাশি ও জ্বরের মৃদু উপসর্গ থাকা ২৬ জন পড়ুয়াকে মাসওয়ান পিএইচসিতে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আধিকারিক বিশাল খাত্রি স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করেন।
এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলার একটি আবাসিক স্কুলের হস্টেলে বিষধর সাপের কামড়ে তিন আদিবাসী কিশোরীর মৃত্যু হয়েছিল। তারা মেঝেতে ঘুমিয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর এই ঘটনাগুলির জেরে মহারাষ্ট্রের আশ্রম স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি মাসের গোড়ায় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গত দুই বছরে মহারাষ্ট্রের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৫৮৪ জন ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কারণগুলির মধ্যে ছিল সাপের কামড়, সিকল সেল রোগ, গুরুতর অসুস্থতা, দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যা।
–আইএএনএস



















